রাজনীতি

মান-অভিমান ভুলে ঐক্যের পথে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি

দলীয় মান-অভিমান ও দীর্ঘদিনের ভুল বোঝাবুঝি পেছনে ফেলে ঐক্যের বার্তা দিয়েছে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি। অতীতের সব বিভেদ ভুলে দলকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার প্রত্যয়ে এক আবেগঘন পুনর্মিলন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির ধানের শীষের কাণ্ডারি ও সাবেক সভাপতি এম নাসের রহমানের উদ্যোগে এবং জেলা বিএনপির আয়োজনে এই পুনর্মিলন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মৌলভীবাজার বিএনপি পরিবারের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা পূর্বের সব দ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথ ও নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

 

জেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি, সদর থানা বিএনপি, জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, কৃষক দল, শ্রমিক দলসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা এক কাতারে এসে দাঁড়ান। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে মৌলভীবাজার শহরে অনুষ্ঠিত প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টাব্যাপী এই সভায় অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও ঐক্যের অঙ্গীকারে সভাস্থল মুখর হয়ে ওঠে।

 

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৌলভীবাজার–৩ (সদর–রাজনগর) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম নাসের রহমান বলেন, “দল ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।”

 

তিনি বলেন, “দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, মানুষের অধিকার আদায়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন এবং কৃষিতে স্বনির্ভরতা অর্জনের মাধ্যমে একটি পুনর্গঠিত উন্নত রাষ্ট্র গঠনে ধানের শীষের কোনো বিকল্প নেই। অতীতের সব বিভেদ ভুলে গিয়ে ধানের শীষকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে দেশনেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির কাণ্ডারি, আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানকে উপহার দিতে চাই—ইনশাআল্লাহ।”

 

সভায় বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ূন। তিনি বলেন, “বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো দলীয় ঐক্য। এই ঐক্য অটুট থাকলে যেকোনো রাজনৈতিক আন্দোলন ও নির্বাচনী লড়াই সফল করা সম্ভব।” সভা সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন।

 

এ ছাড়া বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি রেজিনা নাসের, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলহাজ্ব আবদুল মুকিত এবং জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান (ভিপি মিজান)। তিনি বলেন, “ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ সুগম করবে এবং এতে দল উপকৃত হবে।”

 

সভার শেষ পর্যায়ে সিনিয়র নেতৃবৃন্দ একে অপরের হাত ধরে উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে অতীতের সব বিভেদ ভুলে দলীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার করেন। একই সঙ্গে আগামীর নির্বাচন, রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সাংগঠনিক কার্যক্রম ঐক্যবদ্ধভাবে পরিচালনা করে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

সভায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোশাররফ হোসেন বাদশা, বকসী মিসবাউর রহমান, ফয়সল আহমদ, মুজিবুর রহমান মজনু, জিতু মিয়া, মো. ফখরুল ইসলাম, মুহিতুর রহমান হেলাল, মাহমুদুর রহমান, আবুল কালাম বেলাল, মনোয়ার আহমেদ রহমান, বকসী যুবায়ের আহমদ, মাহবুব ইজদানি, স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী, সেলিম মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, আনিসুজ্জামান বায়েছসহ আরও অনেকে।

 

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন রাজনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম সেলুন, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মারুফ আহমদ ও সিনিয়র সহসভাপতি সাদিকুর রহমান সাদিক, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. অলিউর রহমান এবং সিনিয়র সহসভাপতি সারওয়ার মজুমদার ইমন।

 

অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের সভাপতি জাকির হোসেন উজ্জ্বল ও সাধারণ সম্পাদক এম এ মোহিত, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক জি এম মুক্তাদির রাজু ও সদস্য সচিব আহমেদ আহাদ, ছাত্রদলের সভাপতি মো. রুবেল মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আকিদুর রহমান সোহান, কৃষক দলের সদস্য সচিব মোনাহিম কবির এবং শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রসিক।



সম্পর্কিত খবর