খুলনা

যশোরে আগাম জাতের শিম চাষে কৃষকের মুখে হাসি: চড়া দামে পুষিয়ে যাচ্ছে ক্ষতি

যশোরের কৃষকরা এবার আগাম জাতের শিম চাষ করে দারুণ খুশি। অতিবৃষ্টির কারণে ফলন কিছুটা কম হলেও মৌসুমের শুরুতেই চড়া দাম পাওয়ায় খরচ পুষিয়ে লাভের আশা করছেন চাষিরা। চাহিদার তুলনায় ফলন কম হওয়ায় বাজারে এই আগাম জাতের শিমের দাম এখন বেশ ঊর্ধ্বমুখী।

 

যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের সবজি চাষি জাকির হোসাইন। তিনি ২৫ কাঠা জমিতে আগাম জাতের শিম চাষ করেছেন এবং মাসখানেকের মধ্যেই ফলন পেয়েছেন। তিনি সর্বশেষ সোমবার পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি শিম ১৪০ টাকায় বিক্রি করেছেন, যা গত বছরের তুলনায় তিনগুণ বেশি। জাকির হোসাইনের মতো অনেক চাষিই আগাম শিম চাষ করে বাড়তি দামে বিক্রির সুবাদে লাভের আশায় বুক বেঁধেছেন।

 

চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলি গ্রামের চাষি বিপুল হোসেন চার কাঠা জমিতে শিমের চাষ করেছেন। তিনি ইতোমধ্যে ১১৭ কেজি শিম প্রতি কেজি ৯৫ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, বৃষ্টিতে যে ক্ষতি হয়েছিল, তা এই ভালো দামে পুষিয়ে যাবে। আরেক চাষি চৌগাছা উপজেলার উজিরপুর গ্রামের ফজলুর রহমান জানান, ১০ কাঠা জমিতে শিম চাষ করলেও বৃষ্টিতে ফুল নষ্ট হওয়ায় ফলন খুব ভালো হয়নি। তবে দাম বেশি পাওয়ায় তার ক্ষতিপূরণ হয়ে যাবে।

 

 

কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর যশোর জেলায় মোট ৪৬৫ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের শিম চাষ হয়েছে। উপজেলাভিত্তিক চাষের পরিমাণ হলো:

 

১০৫ হেক্টর (সবচেয়ে বেশি), চৌগাছা: ৯০ হেক্টর, বাঘারপাড়া: ৭০ হেক্টর, মণিরামপুর: ৬৫ হেক্টর. কেশবপুর: ৫০ হেক্টর, ঝিকরগাছা: ৩৫ হেক্টর, শার্শা: ৩০ হেক্টর, অভয়নগর: ২০ হেক্টর (সর্বনিম্ন)

 

সংশ্লিষ্টরা জানান, শিম মূলত শীতকালীন সবজি হলেও হাইব্রিড জাত, বিশেষ করে রূপবান ও রহিম (ইপসা-১ ও ইপসা-২) জাত উদ্ভাবনের ফলে এখন গ্রীষ্মকালেও এর চাষ হচ্ছে। শীত মৌসুমের আগেই ফলন আসায় বাজারে আগাম জাতের এই শিমের চাহিদা বেশি। এর আগে কৃষকরা সর্বোচ্চ ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে পাইকারি এই শিম বিক্রি করেছেন। বর্তমানে পাইকারি ১০০-১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এবং খুচরা বাজারে এই শিম দুইশ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

 

জানতে চাইলে চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোশাব্বির হোসাইন বলেন, বেড তৈরি করে শিম চাষ করা হয়, তাই বৃষ্টির কারণে খুব বেশি ক্ষতি হয়নি। শীতের আগেই ফলন শুরু হওয়ায় চাষিরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশের চাহিদার বেশির ভাগ সবজি যশোরের চাষিরা সরবরাহ করছেন। নিরাপদ ও অর্গানিক সবজি উৎপাদনে কৃষকদের উৎসাহিত করছে কৃষি বিভাগ।



সম্পর্কিত খবর