শীতের সময়ে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখাটা খুবই কষ্টকর। ঠাণ্ডা আবহাওয়ার কারণে রক্ত সঞ্চালন ধীর হয়ে যায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হতে শুরু করে। তাই এই সময় এমন খাবার খাওয়া প্রয়োজন, যেগুলো শরীরকে ভেতর থেকে উষ্ণ রাখে এবং দীর্ঘ সময় শক্তি জোগায়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস মানলে শীতকালেও শরীর সুস্থ ও সক্রিয় রাখা সম্ভব।
শীতের দিনে শুকনা ফল ও বীজ শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। বাদাম, আখরোট, তিল ও তিসির বীজে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এই খাবারগুলো নিয়মিত খেলে শরীরে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিডের ঘাটতি পূরণ হয় এবং পেশির শক্তি বজায় থাকে। ঠাণ্ডার দিনে এগুলো খেলে সহজে ক্লান্তি আসে না এবং দীর্ঘ সময় উষ্ণতা অনুভূত হয়। শীতকালে গোটা শস্য ও বাজরার গুরুত্ব আরো বেড়ে যায়। ওটস, রাগি, জোয়ার বা বাজরার মতো খাবারে জটিল কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে। এর ফলে শরীর দীর্ঘ সময় উষ্ণ থাকে এবং হঠাৎ দুর্বল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা কমে। আর, সেই কারণেই সুপারফুডের তালিকায় থাকা শস্যগুলো এই সময়ে খাদ্যতালিকায় অবশ্যই রাখা উচিত।
ঠাণ্ডার দিনে কন্দজাত সবজি শরীরের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। গাজর, বিট, মিষ্টি আলু ও শালগমে থাকা ফাইবার ও ভিটামিন শরীরের হজম শক্তি উন্নত করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এই সবজি খেলে পেট দীর্ঘ সময় ভর্তি থাকে, ফলে অপ্রয়োজনীয় খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। একই সঙ্গে শরীর ভেতর থেকে উষ্ণ থাকে।
ঘি ও স্বাস্থ্যকর চর্বি শীতকালে শরীরের তাপ ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।