রাজনীতি

সংকট নিরসনে প্রধান উপদেষ্টাকে জাতীয় সংলাপ আয়োজনের আহ্বান গণঅধিকার পরিষদের

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খাঁন বলেন, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। শুধু চটকদার মৌখিক বক্তব্য জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি হতে পারেনা। এজন্য সরকারের তরফ থেকে কার্যকরী উদ্যোগ নিতে হবে।

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে ভারতীয় গণমাধ্যমে অপপ্রচার, ভারতে অবস্থিত  বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনে হামলা ও দেশের চলমান সংকট নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

রাশেদ খাঁন বলেন, বাংলাদেশ ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী জঘন্য মিথ্যাচারের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছেন। আমরা মনে করি, কলকাতা উপ-হাইকমিশনে নিরাপত্তা প্রদান না করে ভিয়েনা কনভেনশন লঙ্ঘন করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

তিনি আরও বলেন, ভারতের গণমাধ্যমে বিজেপি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় সংখ্যালঘু নির্যাতন ও আইনজীবী সাইফুল ইসলামের হত্যাসহ নানা ইস্যুতে গুজব ছড়িয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের মানুষ ভাল আছে। এখানে কোন ধর্মীয় বাকবিতণ্ডা ও সাম্প্রদায়িকতা নেই। মুসলমান- হিন্দু- বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মের মানুষেরা দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতি ও শ্রদ্ধা বজায় রেখে জীবনযাপন করছে।

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামীলীগ নিজেদের বিদায় ও পরাজয় মেনে নিতে পারলেও, স্বৈরাচার হাসিনার বিদায় ভারত মানতে পারছেনা। কারণ এই দেশের বীর ছাত্র-জনতা ভারতের পৃষ্ঠপোষকতায় ১৫ বছরে ধরে গড়ে ওঠা হাসিনার মসনদ ভেঙে খানখান করে দিয়েছে। যেকারণে ভারত একেরপর এক ষড়যন্ত্র করছে এবং ধর্মীয় উস্কানি দিয়ে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট ও যুদ্ধ লাগানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

বাংলাদেশের ভিতরেও নানা ষড়যন্ত্র বিদ্যমান উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন বলেন, সিন্ডিকেট ও বাজার মনিটরিংয়ের অভাবে দ্রব্যমূল্যের দাম আকাশছোঁয়া, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে না আসা, গণহত্যার সাথে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে না পারা, শেখ পরিবারকে ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখা, এখনো পর্যন্ত শহীদ পরিবারগুলোকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে না পারা, উপদেষ্টাদের নানামুখী রাজনৈতিক বক্তব্য ও পৃষ্ঠপোষকতা ইত্যাদির কারণে সংকট প্রকৃট আকার ধারণ করেছে। 

এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য আবু হানিফ, শাকিল উজ্জামান, অ্যাডভোকেট সরকার নুরে এরশাদ সিদ্দিকী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক ইলিয়াস মিয়া, সহ স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রবিউল ইসলাম, যুব অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মুনতাজুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

বায়ান্ন/আরএইচ/একে

 



সম্পর্কিত খবর