জাতীয়

সংবিধানের মূল চারনীতির বাস্তবায়ন ছাড়া পাহাড়ে শান্তি সম্ভব নয়: সিপিবি নেতা প্রিন্স

পাহাড়ের সংকট সমাধানে সংবিধানের মূল চারনীতি- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ও ধর্মনিরপেক্ষতা- বাস্তবায়নকে অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স।

সোমবার (২ ডিসেম্বর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ২৭তম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, “সংবিধানের এই মূল চারনীতি কার্যকর করার প্রস্তাব অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেই দিতে হবে। বর্তমান সরকারের সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা না থাকলেও, তারা সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করতে পারে।” তিনি উল্লেখ করেন যে, সংবিধান সংস্কার কমিশনে সিপিবি কিছু প্রস্তাব জমা দিয়েছে, যার মধ্যে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবিও অন্তর্ভুক্ত।

তিনি বলেন, “আদিবাসীদের স্বীকৃতি দেওয়া হলে তা দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বৈষম্যবিরোধী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সরকারের উচিত আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্য দূর করা। তা না হলে পাহাড় বা সমতলে প্রকৃত শান্তি আসবে না।”

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ পাহাড়ের মূল সংকট হিসেবে ভূমি দখলের সমস্যার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “পাহাড়ে সেটলারদের বসানোর পর থেকেই অশান্তি শুরু হয়েছে। তবে, এ সত্য অস্বীকার করা যাবে না যে সেটলাররাও গরীব। তাই এই সমস্যার সমাধানে সকল পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করতে হবে।”

বজলুর রশীদ আরও বলেন, ভূমি দখল নিয়ে পাহাড়ে যে সংঘাত চলছে, তা নিরসনে সরকার ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

আলোচনা সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের নেতারাও তাদের ৭ দফা দাবি তুলে ধরেন। তারা বলেন, “ভূমি দখলই পাহাড়ে অশান্তির মূল কারণ। চুক্তি বাস্তবায়ন ছাড়া পাহাড়ের উন্নয়ন ও শান্তি সম্ভব নয়।”

তাদের দাবি সমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

  • পার্বত্য অঞ্চলের ভূমি কমিশন কার্যকর করা
  • পাহাড়ে অবৈধ সেটলারদের উচ্ছেদ
  • শান্তি চুক্তির সব শর্ত বাস্তবায়ন।

সভায় বক্তারা পাহাড়ের মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তারা বলেন, "আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং পাহাড়ের জমি সমস্যা সমাধান করা হলে, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে।"

এই আলোচনা সভা পার্বত্য সংকট নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে, যেখানে সংবিধানের মূল নীতির বাস্তবায়ন ও সামাজিক সংহতির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

বায়ান্ন/এমএমএল/এএস/একে

 



সম্পর্কিত খবর