দেশের খবর

সরিষাবাড়ীর বীর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের ডিক্রীরবন্দ এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেনকে সোমবার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি রোববার সকাল ১১টায় ঢাকা সিএমএইচ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। বার্ধক্যজনিত কারনে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি।  

আমজাদ হোসেন মুক্তিযুদ্ধের সময় ১১ নং সেক্টরে অসামান্য ভূমিকা রাখেন। তিনি প্রথমে সিগন্যাল ও কমিউনিকেশন অপারেশনে দায়িত্ব পালন করেন। পরে বিভিন্ন সীমান্ত ক্যাম্পে মুক্তিবাহিনীর প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। কামালপুর সীমান্তে সম্মুখযুদ্ধে তাঁর বীরত্ব আন্তর্জাতিক সংবাদপত্র দ্য ডন-এ প্রকাশিত হয়। স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিগন্যাল কোরে প্রায় ১৫ বছর চাকরি করে সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হিসেবে অবসর নেন। পরে বাংলাদেশ ডাক বিভাগে ৭ বছর কর্মরত ছিলেন। জীবদ্দশায় তিনি ১০টি পদক লাভ করেন। প্রয়াত আমজাদ হোসেন দুই পুত্র ও তিন কন্যার জনক। বড় ছেলে মোঃ মাহবুবুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। বড় মেয়ে আলেয়া আক্তার (১৪তম বিসিএস) তিতুমীর কলেজের অধ্যাপক, দ্বিতীয় মেয়ে আসমাউল হুসনা শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত, আর তৃতীয় মেয়ে উম্মে কুলসুম অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ও সফল উদ্যোক্তা। ছোট ছেলে  ড. মোঃ মামুনুর রশীদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। তাঁর বড় মেয়ের জামাতা আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে রিয়ার অ্যাডমিরাল পদে, দ্বিতীয় মেয়ের জামাতা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে এবং তৃতীয় মেয়ের জামাতা সৈয়দ রাশেদ আল জায়েদ বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর বড় ছেলের পুত্রবধূ জেবুন্নেসা বেগম স্নাতক ডিগ্রিধারী এবং ছোট ছেলের পুত্রবধূ নাহার সুলতানা একজন ডক্টরেট ডিগ্রিধারী এবং আমেরিকাল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এআইইউবি)-তে সহকারী অধ্যাপক পদে কর্মরত রয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে  আমজাদ হোসেন ছিলেন অত্যন্ত সৎ, সামাজিক ও সাহায্যপ্রবণ মানুষ।  তিনি সর্বদা সমাজের মানুষের কল্যানে কাজ করতেন এবং প্রয়োজনে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। তিনি শিক্ষার প্রতি গভীর অনুরাগী ছিলেন এবং সর্বদা সন্তান ও পরিবারকে উচ্চশিক্ষা অর্জনে উৎসাহিত করতেন। তিনি ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি, নিয়মিত নামাজ আদায় করতেন এবং ইসলামী জীবনবোধ মেনে চলতেন।  তাঁর সততা, মানবিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ তাঁকে সবার কাছে একজন প্রিয় ও সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। দাফনের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহছেন উদ্দিন ও সরিষাবাড়ী থানা পুলিশ গার্ড অব অনার প্রদান করেন। পরে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে মরনোত্তর রাষ্ট্রীয় সম্মান ও মরহুমের কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন।

 



সম্পর্কিত খবর