আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে ভোটার দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন।
যারা সবাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। সোমবার নির্বাচন ভবনে ইসি সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। তিনি জানান, ৩১ জুলাই পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ হয়েছে, তাদের তালিকায় অন্তুভূক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ভোটার দাঁড়াচ্ছে ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। এর আগে গত ৯ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করে ইসি। ওই দিন ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছিলেন, হালনাগাদে তিন লাখ ৯ হাজার ৩১৫ জন ভোটার বেড়েছে। সব মিলিয়ে ভোটার দাঁড়াচ্ছে ১২ কোটি ৮৬ লাখ ৩২ হাজার ৫৫৫ জন। ভোটের সময় পেছানো হলে ভোটার নিবন্ধনের সময় বাড়ানো হবে।
এ ক্ষেত্রে তাদের সম্পূরক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ অনুযায়ী খসড়া তালিকা প্রকাশের পর ফরম-৬-এর মাধ্যমে দাবি, ফরম-৭-এর মাধ্যমে আপত্তি এবং ফরম-৮-এর মাধ্যমে সংশোধনের আবেদন গ্রহণ করা হবে। ইসির ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, ৯ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, ২৪ আগস্ট পর্যন্ত দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের আবেদন গ্রহণ করে তা ২৭ আগস্টের মধ্যে এসব আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আবেদনগুলোর ওপর গৃহীত সিদ্ধান্ত ২৮ আগস্টের মধ্যে তালিকায় সংযোজন করে আজ ৩১ আগস্ট হালনাগাদকৃত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। আগামী সেপ্টেম্বর তফসিল ঘোষণা করে নভেম্বর থেকে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন শুরু করতে চায় ইসি। এ ক্ষেত্রে ইউনিয়ন ও পৌরসভার ভোট আগে করার পরিকল্পনা নিয়েছে সংস্থাটি। এদিকে : বাংলাদেশে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিভেন রদ্রিগেজ। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন, সরকার, সুশীলসমাজ ও দেশের নাগরিকদের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। সোমবার (৩১ আগস্ট) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার ও জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিবের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। স্টিভেন রদ্রিগেজ বলেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তাদের অত্যন্ত আন্তরিক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম সফল ও বৃহৎ একটি নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রথমেই নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন জানিয়েছি। গত জাতীয় নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই নির্বাচন দেশের জন্য একটি নতুন মোড় এবং নতুন ভবিষ্যতের পথ প্রশস্ত করেছে। বৈঠকে ইউএনডিপি ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যকার সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করতে পেরে ইউএনডিপি গর্বিত বলেও উল্লেখ করেন স্টিভেন রদ্রিগেজ। তিনি বলেন, নির্বাচন পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা শতভাগ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছে।
তবে ইউএনডিপি, অন্যান্য দাতা সংস্থা এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা যেমন ইউএন উইমেন, ইউএনওডিসি ও ইউনেসকো নির্বাচন আয়োজনের কাজে সমর্থন দিয়েছে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতির বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। নির্বাচন কমিশন কখন এবং কোথায় তাদের সহায়তা চাইবে, সেটি সম্পূর্ণ কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে বলেও উল্লেখ করেন ইউএনডিপির এ প্রতিনিধি। তিনি বলেন, এই অংশীদারত্ব নিয়ে ইউএনডিপি অত্যন্ত গর্বিত। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা পাওয়ায় তিনি এবং তার দল কৃতজ্ঞ। ইউএনডিপির এই প্রতিনিধি বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনগুলোও শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু হবে এবং দেশের সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষা করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এ ক্ষেত্রে শুধু নির্বাচন কমিশন বা সরকার নয়, সুশীল সমাজ ও দেশের প্রতিটি নাগরিকের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ।