নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পুরুলিয়া গ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে শহরের কুড়িরডোপ এলাকায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন-পুরুলিয়া গ্রামের কামরুল ইসলাম, পুরুলিয়া ইউনিয়নের (ইউপি) সাবেক সদস্য কোবাদ মোল্যা, মিলটন কাজী, জয়নাল শেখসহ অনেকে।
অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য কামরুল ইসলাম বলেন, নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পুরুলিয়া গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলে আসছে। আমাদের প্রতিপক্ষ পুরুলিয়া ইউপির বর্তমান সদস্য (মেম্বার) আনিচ শেখ, খুরশিদ মোল্যা, নাজিম মোল্যা, উজ্জ্বল মোল্যাসহ তাদের লোকজন গ্রামে অশান্তি সৃষ্টি করে আসছে। গত ২৬ নভেম্বর সকালে পুরুলিয়া মোড়ে কিছু লোক জড়ো করে মানববন্ধন করে। তারা আমার (কামরুল) এবং কোবাদ মোল্যার বিরুদ্ধে অপবাদ দেয় যে, আমরা আনিচ ও খুরশিদ মোল্যার বাড়ির আঙিনায় ককটেল রেখে তাদেরকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছি। আমাদের হেয় করে সম্মানহানির অপচেষ্টা করা হচ্ছে। পদত্যাগী আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী নেতাকর্মী ও সমর্থকরা আনিচ ও খুরশিদদের সঙ্গে মিলেমিশে দ্বন্দ্ব-সংঘাত সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। ফলে যে কোনো সময় পুরুলিয়া গ্রামে বড় ধরনের সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে। আমাদের গ্রামে কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। একটি ভালো গ্রামের ঐক্যকে বিনষ্ট করতে তৃতীয়পক্ষ (আ’লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা) সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা গ্রামে সুখ-শান্তিতে বসবাস করতে চাই। কারও চক্রান্তের শিকার হতে চাই না। এ ব্যাপারে আমরা মাননীয় পুলিশ সুপার মহোদয়সহ আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সহযোগিতা চাই।
পুরুলিয়া ইউপির সাবেক সদস্য কোবাদ মোল্যা বলেন, আনিচ শেখ ও খুরশিদদের বাড়িতে কে বা কারা ককটেল রেখেছে। অথচ আমাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। আনিচ ও খুরশিদদের বাড়ি থেকে আমার বাড়ির দূরত্ব এক কিলোমিটার। এত দূর থেকে এসে কীভাবে তাদের বাড়িতে ককটেল রাখা যায়? সব সময় তো তাদের বাড়িতে লোকজন থাকেন। এছাড়া বাজারের পাশেই আনিচদের বাড়ি হওয়ায় সেখানে সিসিটিভি আছে। সিসিটিভি দেখুক, কারা তাদের বাড়িতে ককটেল রেখেছে। আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। পরিকল্পিত ভাবে গ্রামে অশান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। আনিচদের এমন মিথ্যাচার আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। এসব ঘটনার তদন্ত করা হলে আসল তথ্য বেরিয়ে আসবে।
এদিকে, পুরুলিয়া ইউপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) আনিচুর রহমান আনিচ শেখ এবং পুরুলিয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক চাঁচুড়ী-পুরুলিয়া বণিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ খুরশিদ মোল্যা বলেন, প্রতিপক্ষের লোকজন গত ২৪ নভেম্বর গভীর রাতে তাদের বাড়ির পাশে অস্ত্র ও ককটেল রেখে ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছেন। সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করতে আনিচদের বসত ঘরের পশ্চিম পাশে শুকনো পাতার মধ্যে একটি পিস্তল এবং আটটি ককটেল রেখে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীকে খবর দেওয়া হয়। প্রতিপক্ষরা ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে এমন কাজ করেছেন, বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা বুঝতে পারেন। এছাড়া একই রাতে (২৪ নভেম্বর) চাঁচুড়ী-পুরুলিয়া বাজার বণিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ খুরশিদ মোল্যার বাড়ির দক্ষিণ পাশে পরিত্যক্ত গোয়াল ঘরে বালতির মধ্যে চারটি ককটেল রেখে তাকে (খুরশিদ) ফাঁসানোর চেষ্টা চালায় প্রতিপক্ষরা। আনিচ ও খুরশিদ বলেন, আমরা বারবার প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছি। আমরাও গ্রামে শান্তি চাই।