বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় হামের উপসর্গ ও ডায়রিয়াজনিত জটিলতায় সংপ্রং ম্রো (১৮) নামে এক নববধূর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি দুর্গম কুরুকপাতা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভেওলা ম্রো পাড়ার বাসিন্দা ছিলেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৭টা ৪৪ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, ডায়রিয়াজনিত জটিলতায় তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল।
এদিকে বৃহস্পতিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তুমরাও ম্রো (১) নামে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলায় হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ জনে।
আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, ১৫ মে পর্যন্ত হাসপাতালে সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩২০ জন। এর মধ্যে ২৬৯ জনকে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৯০ জন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ৯ জনকে অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৭৩ জন। এ ছাড়া বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগ থেকে সেবা নিয়েছেন আরও ৫১ জন।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হামের বিস্তার রোধে অস্থায়ী চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে। পোয়ামুহুরী ও কুরুকপাতা এলাকায় স্থাপিত দুটি অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প থেকে এখন পর্যন্ত ৪১০ জন হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনতে স্বাস্থ্যকর্মীরা বিভিন্ন পাড়ায় গিয়ে কাজ করছেন।
শুক্রবার কুরুকপাতা মৈত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প ও হামে আক্রান্ত বিভিন্ন পাড়া পরিদর্শন করেন বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই। পরিদর্শনকালে তিনি চিকিৎসাসেবার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং দুর্গম এলাকায় একটি স্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।
তিনি আরও জানান, পাহাড়ি অঞ্চলের পানি ও স্যানিটেশন সমস্যা নিরসনে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ সদস্য সাইফুল ইসলাম রিমন এবং কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো।