জাতীয়

বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক আটকিয়ে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ

 গাজীপুরে এক মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এতে ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়কে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

 
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭ টার দিকে ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়কের দিঘিরচালা এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন শিনওয়ান গার্মেন্টস কোং লিমিটেড, যা বুলবুল নিটিং নামে পরিচিত ওই প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা আন্দোলনে নামেন।
 
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের অভিযোগ, কারখানা মালিকের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কারখানার প্রশাসন বেতন পরিশোধে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। এরই মধ্যে মালিক পক্ষ মেশিনপত্র সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। শ্রমিকদের দাবির বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করেও মিলছে না আশ্বাস। তাই বাধ্য হয়ে আন্দোলন করছেন তারা। আগস্ট মাসের বেতন বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) দেয়ার কথা ছিল৷ কিন্তু মালিকপক্ষ তা কোনো এক কারণে পরিশোধ করেননি৷ এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে দেড় থেকে ২০০ শ্রমিক ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেছেন৷ এতে ওই মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ রয়েছে।
 
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ও বাসন থানা পুলিশ। প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশের আশ্বাসে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
 
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগস্ট মাসের বকেয়া বেতন, নাইট বিল পাওনা রয়েছে। মালিকপক্ষ বেতন দিতে টালবাহানা করায় এদিন সকাল ৭টার দিকে গাজীপুর মহানগরের বাসন থানাধীন দিঘীরচালা এলাকায় কারখানাসংলগ্ন ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে নামে কয়েকশো শ্রমিক। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় শ্রমিকরা কারখানার মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেয়। পরে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
 
গাজীপুর মেট্রোপলিটন ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর তরিকুল ইসলাম বলেন, বকেয়া বেতনের দাবিতে শিনওয়ান গার্মেন্টসের শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের কারণে ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয়পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে সড়কে যান চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
 
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন খান জানান, একটি কারখানার শ্রমিকরা বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন। ঘটনাস্থলে থানা ও শিল্প পুলিশ গিয়ে তাদের বুঝিয়ে সমাধানের চেষ্টা করছে৷
 
এ বিষয়ে জানতে মালিক পক্ষের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। প্রতিষ্ঠানের অনন্য কর্মকর্তারা কথা বলতে রাজি হননি৷ 


সম্পর্কিত খবর