টপ নিউজ

বছরে ৬৫ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার, ধরাছোঁয়ার বাইরে চোরাচালান চক্র

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আসা একটি ফ্লাইটের সিটের নিচে লুকানো অবস্থায় ৮০ পিস স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের ওজন ৯ দশমিক ৩৩ কেজি, যার বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা। তবে বছরের পর বছর ধরে স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনা ঘটলেও চোরাচালান চক্রের মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে, এমনটিই স্বীকার করেছেন কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

বুধবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফ্লাই দুবাইয়ের এফজেড৫২৩ নম্বর ফ্লাইটে তল্লাশি চালিয়ে ১৯এ সিটের নিচে কালো স্কচটেপে মোড়ানো অবস্থায় স্বর্ণের বারগুলো উদ্ধার করা হয়।

 

 

মালিকবিহীন এসব স্বর্ণ কাস্টমসের মূল্যবান গুদামে জমা রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তবে কে বা কারা এই স্বর্ণ এনেছে, কারা এর মূল হোতা, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অধরাই রয়ে গেছে।

ঢাকা কাস্টমস হাউসের কমিশনার মো. মশিউর রহমান বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত এক বছরে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ৬৫ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

অথচ এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো বড় চক্রকে বিচারের আওতায় আনা যায়নি বলে স্বীকার করেছেন তিনি নিজেই।

চোরাচালান চক্রের ধরন সম্পর্কে কমিশনার বলেন, ‘শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে স্বর্ণ এনে অন্য বিমানবন্দর এবং সড়কপথে অন্য দেশে পাচার করা হয়। আমরা নানাভাবে এই চক্রকে থামানোর চেষ্টা করছি।’

 

স্ক্যানার সংকট, তদন্তে জটিলতা

স্বর্ণ চোরাচালান রোধে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্ক্যানার সংকট। কমিশনার জানান, চট্টগ্রাম বা মোংলা বন্দরে কন্টেইনার ধরেই স্ক্যান করার সুযোগ থাকলেও শাহজালাল বিমানবন্দরে শুধু ব্যাগেজ ও লাগেজ স্ক্যান করা যায়। গত বছর অগ্নিকাণ্ডে কিছু স্ক্যানার পুড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে।

 

বিমানের স্টাফ, ক্রু বা পাইলটদের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, ‘আমাদের তদন্ত ও অভিযানের সময় সবাইকেই নজরে রাখি। কেউ নজরের বাইরে নেই। তবে আইনের কারণে সরাসরি কাউকে অভিযুক্ত করা যায় না।’

 

অর্থাৎ বছরের পর বছর ধরে স্বর্ণ উদ্ধার হলেও চোরাচালান চক্রের মূল নেটওয়ার্ক, তাদের স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক যোগসূত্র, বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ সহযোগী, কোনোটিই এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু স্বর্ণ উদ্ধার নয়, চক্রের পেছনের মানুষদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারলে এ অপরাধপ্রবণতা থামানো কঠিন।

 

প্রসঙ্গত, গত ১৯ জুলাই একটি ফলের ঝুড়িতে ১৬ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার হয়েছিল। সেই ঘটনায় এখনো কেউ আটক হয়নি। এ বিষয়ে কমিশনারের কাছে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা মামলা দিয়েছি। মামলায় ইমপোর্টার, ফরওয়ার্ডার এবং সিএন্ডএফ এজেন্টের নাম উল্লেখ করেছি। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিষয়।’

 

সূত্র বলছে, স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত চক্রগুলো অত্যন্ত সংঘবদ্ধ এবং প্রভাবশালী। ফলে উদ্ধার অভিযান সফল হলেও গ্রেপ্তার ও দণ্ড নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্বলতা রয়ে গেছে। দেশীয় অর্থনীতি রক্ষায় কাস্টমসের নজরদারি বাড়লেও চক্রের মূল হোতারা এখনো আইনের আওতার বাইরে।

 



সম্পর্কিত খবর