বাঁশখালীতে বিএনপি নেতার সহযোগিতায় ছরওয়ার আলম নামের এক দিনমজুরের জায়গা দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দখল করা জায়গায় বর্তমানে স্থাপনা নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে অভিযুক্তরা। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিলেও কোন প্রতিকার পাননি ভুক্তভোগী ছরওয়ার আলম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের চাঁপাছড়ি গ্রামের মৃত আবদুছ ছত্তার মিয়ার ছেলে মো. ছরওয়ার আলম একই এলাকার মৃত মাস্টার গোলাম রহমানের ছেলে করিম উল্লাহর কাছ থেকে ভূমি বিক্রয় রশিদ মূলে পুকুরিয়া ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামের লট চাঁদপুর মৌজায় ৩০ শতক জমি কিনেন। জায়গাটি কেনার সময় সেখানে প্রায় ২ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছ সৃজন করা ছিল।
অপরদিকে ভুক্তভোগী ছরওয়ার আলম পুকুরিয়া থেকে ১০ কিলোমিটার দূরবর্তী বাহারছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা হওয়ায় ক্রয়কৃত জায়গায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করেন পুকুরিয়া ইউনিয়নের চাঁদপুর পুরান ঘাট এলাকার মৃত নজির আহমদের ছেলে মোহাম্মদ ইছহাক ও মোহাম্মদ ইউনুছ। ২০২৩ সালে দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় ছরওয়ার আলমের ক্রয়কৃত জায়গা থেকে প্রায় ২ হাজার গাছ কর্তন করে লুটপাট চালায় এবং ছরওয়ারকে মারধর করেন ইউনুছ ও ইউসুফ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছরওয়ার বাদী হয়ে বাঁশখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। উক্ত মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ছরওয়ার আলম জানান, ‘গত ১৬ এপ্রিল আমার খরিদকৃত জায়গায় চারিদিকে খুঁটি স্থাপন করে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে দেয়। এমন অবস্থায় আমি স্থানীয় লোকজন নিয়ে গেলে ইছহাক ও ইউনুস আমাকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাড়া করে। আমি ১০ কিলোমিটার দূরের বাসিন্দা হওয়ায় এখানে আমার কোনও ক্ষমতা কাজে আসছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘জায়গাটি বিএনপি নেতা ও স্থানীয় চেয়ারম্যান আসহাব উদ্দিনের বাড়ি থেকে ২০০ গজ দূরে। সন্ত্রাসী ইউনুস ও ইছহাক চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় আমার জায়গা জবর দখল করেছে। এখন ওই জায়গায় ইটের স্তুপ করে স্থাপনা নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে অভিযুক্তরা। আমি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে বিষয়টির সমাধান চাইলেও তিনি কোন কথা শুনছেন না। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করার পর পুলিশ এসে সরজমিন পরিদর্শন করে গেছে। কিন্তু ওরা কারও কথা শুনছে না।’
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানার জন্য মোহাম্মদ ইছহাককে ফোন করা হলে তিনি গাড়িতে আছেন জানিয়ে কল কেটে দেন। পরে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাঁশখালী উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য ও পুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসহাব উদ্দিন বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। কোন ছরওয়ারকে আমি চিনি না।’ কিছুক্ষণ পর আমতা আমতা করে আসহাব উদ্দিন বলেন, ‘জায়গা জায়গা করলে হবে? ওখানে ছরওয়ারের জায়গা নেই। এগুলো ইছহাকদের জায়গা।’
বাঁশখালী থানার এসআই রুবেল চন্দ্র সিংহ জানান, ‘ছরওয়ার আলমের অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি সমাধানের জন্য উভয়পক্ষকে ডেকেছি। কিন্তু ইছহাক ও ইউনুস আমাদের বৈঠকে সাড়া দিচ্ছে না। এখন অভিযোগের ভিত্তিতে তো তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে পারছি না।’
ছবি ক্যাপশন: (১), বাঁশখালীতে দখলকৃত জায়গায় ইটের স্তুপ করে স্থাপনা নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে অভিযুক্তরা।