ক্ষমতায় আসার দু সপ্তাহের মধ্যেই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
সীমান্তের ২৭ কিলোমিটার স্পর্শকাতর এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-র হাতে তুলে দিল রাজ্য সরকার।
বুধবার (২০ মে) নবান্নে বিএসএফের শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিতিতে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মোট প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই রয়েছে প্রায় ২ হাজার ২০০ কিলোমিটার।
সেই অসম্পূর্ণ অংশের মধ্যে ২৭ কিলোমিটার স্পর্শকাতর এলাকায় বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগের সরকার অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইলে বহু আগেই সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনীয় জমি দিতে পারত। কিন্তু তোষণের রাজনীতির কারণে তা করা হয়নি।
তার কথায়, এটা শুধু শুরু হলো। আমাদের প্রশাসন দ্রুত বাকি কাজও সম্পূর্ণ করবে এবং বিএসএফকে সব রকম সহযোগিতা করবে।
অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, এবার থেকে সিএএ-র আওতার বাইরে থাকা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আটক করে পুলিশ সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেবে। এরপর নির্ধারিত প্রটোকল মেনে বিএসএফ বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি)র সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করবে।
বুধবার থেকেই কেন্দ্রের নির্দেশিকা মেনে এই ‘পুশব্যাক’ নীতি কার্যকর হয়েছে বলে জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা, নারী সুরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা ও অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত বহু ক্ষেত্রে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নাম উঠে এসেছে। তাই সীমান্ত নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনোভাবেই আপস করা হবে না.
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, কেন্দ্র ২০২৫ সালেই সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং অনুপ্রবেশ রোধে রাজ্যকে নির্দেশিকা পাঠিয়েছিল। সেই নির্দেশিকা কার্যকর না হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছিল।
নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই নির্দেশ কার্যকর করে সীমান্তে নজরদারি আরও কড়া করা হচ্ছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।