নওগাঁর আত্রাইয়ে নিখোঁজের ১৯ মাস পর চাঞ্চল্যকর সুমন (৩৯) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার কয়সা গ্রামের একটি পুকুরের ডোবা থেকে নিহত সুমনের কঙ্কাল ও হাড়গোড় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি শাফিউল ইসলামকে (২৩) গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের ২০ জুন রাতে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন কয়সা গ্রামের শাহাদাত হোসেনের ছেলে সুমন। পরিবারের জিডির প্রেক্ষিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে রক্তের নমুনা পেয়ে ডিএনএ পরীক্ষা করলে সুমনের রক্তের মিল পাওয়া যায়। পরবর্তীতে নিহতের স্ত্রী বুলি বিবি বাদী হয়ে আত্রাই থানায় মামলা দায়ের করেন। সম্প্রতি নওগাঁর পুলিশ সুপারের বিশেষ নির্দেশনায় তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মামলার তদন্ত শুরু হলে রহস্য বেরিয়ে আসে।
গ্রেফতারকৃত শাফিউল জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন, তাঁর স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি ও তাঁর ছোট ভাই সায়েম মিলে সুমনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন। পরে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পাশের একটি নিচু জায়গায় মাটিচাপা দেন। উল্লেখ্য, শাফিউলের ছোট ভাই সায়েম কয়েক মাস আগে আত্মহত্যা করেছেন।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ডোবা সেচে সুমনের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। নওগাঁ জেলা পুলিশ যেকোনো অপরাধ উদঘাটন ও দমনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।