ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো একটি বহুজাতিক সিগারেট কোম্পানি। ১৯১০ সালে উপমহাদেশে ব্যবসা শুরু করে এই প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ টোব্যাকো কোম্পানি (BTC) নামে চালু হয়।
এরপর ১৯৯৮ সালে পুনরায় ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো কোম্পানি (BATB) নামকরণ করা হয়। বিভিন্ন সময় কোম্পানির নাম পরিবর্তন হলেও পরিবর্তন হয়নি শ্রমিকদের ভাগ্যের চাকা।
ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশে লিঃ এর মূলমন্ত্র "সাফল্য ও দ্বায়িত্ব একসাথে চলে" প্রতিবছর শ্রমিকদের সঠিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে কোম্পানি অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জন করলেও শ্রমিকদের প্রতি কোম্পানি কতটুকু দায়িত্ব পালন করে সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির সকল সুযোগ সুবিধা ভোগকারী শ্রমিক কর্মচারীদের ২০১২ সালে ছাঁটাই করে অস্থায়ী ভিত্তিতে সিজেনাল নাম দিয়ে নতুন শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন তখন থেকে তাদের কোন নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। ২০১২ সাল থেকেই কপাল পুড়তে থাকে শ্রমিকদের। সুযোগ-সুবিধা নামিয়ে আনা হয় প্রায় শূণ্যের কোঠায়।
কথায় কথায় শ্রমিক ছাটাই, অতিরিক্ত ডিউটি করতে বাধ্য করা সহ নানা কারণে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তুষ্টি দেখা যায়। বিগত তিন থেকে চার বছর ধরে শ্রমিকরা কোম্পানিটির মানবসম্পদ বিভাগে দাবি দাওয়া পেশ করে আসছে। এই দাবি-দাওয়া পেশ করতে গিয়ে চাকরি চ্যুতো হন প্রায় ১৬ জন শ্রমিক।
এরপর শ্রমিকেরা আইনগতভাবে শ্রম আদালতের শরণাপন্ন হয়। আদালত শ্রমিকদের পক্ষে রায় প্রদান করে এরপর কোম্পানি তা মানতে বিভিন্ন তালবাহানা করে সময় ক্ষেপণ করতে থাকে। স্থানীয় প্রশাসন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) মোছাঃ শারমিন আক্তার স্বাক্ষরিত শ্রমিকদের ২২ দফা যৌক্তিক এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের সাথে আলোচনা করে সমাধান করার জন্য কোম্পানিকে জানানো হয়।
কুষ্টিয়া পৌরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ড চৌড়হাস- কুমারগাড়ায় বিএটিবি'র তামাক প্রসেস কেন্দ্র গ্রীণ লীফ ট্রেসিং প্লান্ট (জিএলটিপি) অফিসে ১৪৬ জন শ্রমিক তাদের এক নিয়োগপত্র, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্রাচ্যুইটি, ৫% মুনাফা, ছাটাই কিতো শ্রমিকদের পুনরায় নিয়োগ, শ্রমিকদের পক্ষে কাউকে নমিনি করা, গ্রুপ বীমা, সাপ্তাহিক ছুটি প্রদান, শ্রমিকদের সার্ভিস বুক, রেজিস্ট্রার নিয়ন্ত্রণ করা সহ ২২ দফা দাবি আদায়ে রবিবার ৫ম দিনের মত আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। কোম্পানি প্রধান ফঁটক সহ প্রতিটি ফঁটক বন্ধ করে দিয়ে গেটেই অবস্থান নিয়েছে। বৈষম্য বিরোধী শ্রমিক আন্দোলনের ব্যানারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। গত ২৪ এপ্রিল তামাক প্রসেসের মৌসুমী এই কোম্পানিটি প্রসেসিং শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে শ্রমিকের আন্দোলনের কারণে এখন পর্যন্ত কোম্পানি চালু করতে পারি নাই।
এ বিষয়ে রাজু আহমেদ নামে একজন শ্রমিক জানান, ২০১২ সালের চাকুরী শুরু করা থেকে আজ পর্যন্ত কোন পত্র হাতে পাই নাই, কোম্পানির পার্মানেন্ট শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধার সিকি ভাগ্য আমাদের দেওয়া হয় না। যখন তখন আমাদের ছাটাই করার ক্ষমতা কোম্পানি হাতে রেখেছে এবং নিয়মিত শ্রমিক সাটাই করে যাচ্ছে। এসবের প্রতিবাদে আমরা আন্দোলনে নেমেছি আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোম্পানির গেটে এ অবস্থান করবো। আরেক শ্রমিক তনু জানান, শ্রমিকদের ভালো-মন্দ দেখাবার করার জন্য সিবিএ নেতা আছে। তবে তারা শ্রমিকদের ভালো-মন্দ দেখাশোনা না করে কোম্পানির ম্যানেজমেন্টের স্বার্থসিদ্ধি রক্ষা করাই ব্যস্ত। আজ পঞ্চম দিন পর্যন্ত কোন সিপি নেতা আমাদের সাথে যোগাযোগ করেনি। এ বিষয়ে চিবিয়ে নেতা মমিনুর রহমান মুমিনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি। জিএলটিপি এর প্লান্ট ম্যানেজার মোঃ আব্দুল মুকিত এর মুঠোফোনে কলকরে পাওয়া যায়নি। তবে জিএলটি একটি সূত্রে জানা গেছে, ২৭ এপ্রিল কোম্পানির তামাক বিভাগের প্রধান (হেড অব লীফ) এলেক্স সাহেব কুষ্টিয়া আসবেন। তার সাথে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।