ঢাকা

আমেনা হত্যা: অতীতের এক মামলার সূত্র ধরে আলোচনায় সৎ বাবা আশরাফ

মাধবদীর আলোচিত ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছেন নিহত আমেনার সৎ বাবা আশরাফ। স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি উঠেছে—তিনি অতীতেও একটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবিও জোরালো হচ্ছে।

 

 

আমেনার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার রাতে আনুমানিক রাত ১০টার দিকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত আমেনাকে তার সৎ বাবার কাছ থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। তবে এই ঘটনায় আশরাফের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না—তা এখনো নিশ্চিত নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

 

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৮ এপ্রিল দিবাগত রাতে নালিতাবাড়ী উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়নের মৌয়াকুড়া গ্রামে সংঘটিত এক গৃহবধূ হত্যা মামলায় আশরাফ আলী নামে একজনকে আটক করা হয়েছিল।

সেই সময় স্থানীয় সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়—স্বামীর অনুপস্থিতিতে গৃহবধূ হাজেরা খাতুনকে কুপ্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে ব্যর্থ হলে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের সন্দেহের ভিত্তিতে আশরাফ আলীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছিল।

তবে ওই মামলার চূড়ান্ত রায় বা বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

আমেনা হত্যা মামলায় ইতোমধ্যে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কারো বিরুদ্ধে মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

একাধিক সূত্র জানায়, অতীতের অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের স্বার্থে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখনো কাউকে দোষী বা অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।

 

সচেতন মহলের মতে, আশরাফের বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা অভিযোগগুলোর নথিপত্র পর্যালোচনা করে এবং বর্তমান ঘটনার সঙ্গে কোনো যোগসূত্র আছে কি না—তা খতিয়ে দেখা জরুরি। তবে আইনের দৃষ্টিতে কেউ দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি অভিযুক্ত মাত্র—এ বিষয়টি মাথায় রেখে গুজব বা অপপ্রচার এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এদিকে আমেনা হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।



সম্পর্কিত খবর