চট্টগ্রাম প্রতিদিন

আলীকদমে জ্বালানি সংকট: আয় হারাচ্ছেন ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল চালকেরা, জনজীবনে স্থবিরতা

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধি পরবর্তী জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে বিপর্যস্ত জনজীবন। বিশেষ করে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকরা পড়েছেন চরম বিপাকে। পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ না থাকায় আয় কমে যাওয়ায় তাদের পরিবারে দেখা দিয়েছে আর্থিক সংকট ও অনিশ্চয়তা।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় প্রায় ৩০০ জন ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল চালক নিয়মিত যাত্রীসেবা প্রদান করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তারা আলীকদম-থানচি, আলীকদম-কুরুকপাতা-পোয়ামুহুরী সড়ক, মারাইংতং জাদী পাহাড়সহ নানা স্থানে পর্যটক, স্থানীয় জনসাধারণ এবং ব্যবসায়ীরা তাদের প্রয়োজনীয় যাতায়াত ও যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ভড়ায় চালিত এসব মোটর সাইকেল ব্যবহার করে থাকেন। 

 

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে তারা আগের মতো নিয়মিত যাতীসেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। ফলে দৈনিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। 

 

ভাড়ায় চালিত বাইকার মোঃ সাইফুল ইসলাম সিকদারসহ একাধিক চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় অনেকেই দিনভর কাজ করতে পারছেন না। যারা অল্প পরিমাণ জ্বালানি পাচ্ছেন, তারাও দূরপাল্লার যাত্রীসেবা দিতে ভয় পাচ্ছেন, পথিমধ্যে তেল শেষ হয়ে যাওয়ার এই আশঙ্কায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, আলীকদম উপজেলায় দুইজন ডিলারের মাধ্যমে মাত্র তিনটি দোকানে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এসব দোকানে একজন ক্রেতাকে সর্বোচ্চ দুই লিটার অকটেন দেওয়া হচ্ছে, যা দৈনন্দিন চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। ফলে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকেই তেল পাচ্ছেন না। 

 

এই সংকটের প্রভাব শুধু মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দুর্গম এলাকার স্থানীয় জনসাধারণ, স্কুল শিক্ষক, ইঞ্জিনচালিত নৌকা এবং স্থানীয় পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোও ভোগান্তিতে পড়েছেন। 

 

পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় শিক্ষকদের নিয়মিত স্কুলে যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটছে, নৌযান চলাচলও সীমিত হয়ে পড়েছে। এতে করে পাহাড়ি অঞ্চলের সার্বিকভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরাও জানান, পর্যটক পরিবহন ও গাইড সেবায় জ্বালানি সংকট নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এতে পর্যটন খাতেও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা দ্রুত জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 

 

অন্যথায় এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে আলীকদমের সামগ্রিক অর্থনীতি ও জনজীবনে আরও আশঙ্কাজনক প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



সম্পর্কিত খবর