রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরুর আগমুহূর্তে ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরল জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। অর্থ সংকটে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা শিশুর প্রাথমিক শিক্ষার কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে সংস্থাটি।
রবিবার (২৪ আগস্ট) কক্সবাজারে ইউনিসেফ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স জানান, কেজি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার সুযোগ হারিয়েছে এসব শিশু। ফলে ভবিষ্যতে তারা কীভাবে উচ্চতর শ্রেণিতে পড়বে, তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ফ্লাওয়ার্স বলেন, “৩০ বছরের কর্মজীবনে এতো ভয়াবহ অর্থ সংকট দেখিনি। প্যালেস্টাইনসহ অন্যান্য যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে মনোযোগ সরে গেলেও আমরা চেষ্টা করছি রোহিঙ্গা শিশুদের দিকেও দৃষ্টি ফেরাতে।”
ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় আড়াই লাখ রোহিঙ্গা শিশু শিক্ষায় যুক্ত ছিল, যার মধ্যে ৭৫ শতাংশ তাদের অধীনে। অর্থাভাবের কারণে শুধু ইংরেজি শিক্ষা নয়, স্থানীয়ভাবে নিয়োজিত ১,১৭৯ জন শিক্ষককেও চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বর্তমানে ১,৩৭০ জন বাংলাদেশি শিক্ষক কাজ করছেন এবং প্রায় ৩,৮৭৩ জন রোহিঙ্গা শিক্ষক স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে যুক্ত থাকলেও অনেকের বেতন বন্ধ রয়েছে।
চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের আন্দোলন থেকে ‘সহিংস বক্তব্য’ আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ইউনিসেফ জানায়, বর্তমানে ৩৪টি ক্যাম্পে প্রায় ছয় লাখ রোহিঙ্গা শিশু রয়েছে, প্রতিবছর জন্ম নিচ্ছে আরও ৩০ হাজার শিশু।
এমন সময়ে কক্সবাজারে শুরু হলো তিন দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘স্টেকহোল্ডারস ডায়ালগ: টেকঅ্যাওয়ে টু দ্য হাই-লেভেল কনফারেন্স অন দ্য রোহিঙ্গা সিচুয়েশন’। সম্মেলনে মানবিক সহায়তা ও তহবিল সংকট অন্যতম আলোচ্য বিষয়।