টপ নিউজ

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ৫

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে শনিবার ভোরে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পে অন্তত  পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের গভর্নর এমানুয়েল মেলকিয়াদেস লাকা লেনা। তিনি বলেন, মানুষ ঘুমিয়ে থাকার সময় কয়েকটি ভবন ও স্থাপনা ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ওই পাঁচজনের মৃত্যু হয়। তবে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবি জানিয়েছে, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত একজনের মৃত্যু এবং চারজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহতের সংখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের তথ্যে পার্থক্য রয়েছে।

 

ইন্দোনেশিয়ার ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা বিএমকেজি জানায়, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫৮ মিনিটে প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১৫ কিলোমিটার গভীরে। এরপর ওই এলাকায় কয়েকটি আফটারশক হয়। বিএনপিবি জানিয়েছে, পূর্ব নুসা তেংগারা, পশ্চিম নুসা তেংগারা এবং দক্ষিণ সুলাওয়েসির বিভিন্ন এলাকায় শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে। কয়েকটি এলাকার বাসিন্দারা জানান, প্রায় এক মিনিট ধরে ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়। আতঙ্কে বেশির ভাগ মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে ছুটে যান। পূর্ব নুসা তেংগারার তালিবুরা গ্রামের ৫১ বছর বয়সী বাসিন্দা নোনা বলেন, ভূমিকম্পের সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাড়িতে ছিলেন। তার ভাষ্য, বাড়িতে তখন ১৩ জন ছিলেন। কম্পন খুব তীব্র হওয়ায় সবাই জীবন বাঁচাতে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যান।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ভবনের অংশ ধসে পড়ে ধুলা ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে। এ সময় আতঙ্কিত মানুষ চিৎকার করতে করতে রাস্তায় ছুটে যান। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ভিডিওটি যাচাই করে জানিয়েছে, এটি পূর্ব ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপের সিক্কা এলাকার প্রধান শহর মাউমেরে বন্দরে ধারণ করা হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর পূর্ব নুসা তেংগারার এন্দে এলাকার একটি হাসপাতাল থেকে রোগীদের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়। কোমপাস টিভির ফুটেজে এ দৃশ্য দেখা গেছে। কোমপাস ডটকম জানিয়েছে, অন্তত একটি এলাকায় ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেছে। বিএনপিবি জানিয়েছে, নেগেকেও এলাকায় প্রায় দুই হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি বাড়ি, গুদাম ও সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু এলাকায় যানজট ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পের পর ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি উপকূলীয় এলাকায় সুনামির ঢেউ রেকর্ড করা হয়। এসব ঢেউয়ের উচ্চতা এক মিটারের কম ছিল। পরে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রায় তিন ঘণ্টা পর সুনামির সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়।

 

 

অস্ট্রেলিয়ার সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের কারণে অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ড, দ্বীপ বা অন্যান্য অঞ্চলে সুনামির কোনো হুমকি নেই। ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। দেশটি ‘প্রশান্ত মহাসাগরীয় অগ্নিবলয়’ এলাকায় অবস্থিত। এ অঞ্চলে পৃথিবীর ভূত্বকের কয়েকটি প্লেট একে অপরের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। এ কারণে এখানে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।

 



সম্পর্কিত খবর