ঢাকা

গাজীপুরে ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস থেকে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর পর্যন্ত ৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ের ১৮ কিলোমিটার অংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে, যা ভোগড়া থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত বিস্তৃত। এই প্রকল্পটি ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে ঢাকা শহরের যানজট কমাতে এবং দ্রুত যাতায়াতে সহায়তা করছে।

 

প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এ রোডে আসা-যাওয়া করে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দরে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালামালসহ অন্যান্য জিনিস আনা নেওয়া করে। যেমন ছয় চাক্কা, দশ চাক্কা, চৌদ্দ চাক্কা কন্টেইনারসহ প্রাইভেট কার, হাইজ, নোয়া, বাস ও ট্রাক চলাচল করে।

 

ড্রাইভারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দুই এক দিন পর পর আমাদের সুবিধার্থে এ রোড ব্যবহার করি। কিন্তু যেমন সুবিধা তেমনি অসুবিধা। প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ী এ রোডে আসা-যাওয়া করে। দুঃখের বিষয় হলো, কারণে-অকারণে ট্রাফিক পুলিশ আমাদেরকে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি করে। জোরপূর্বক ভাবে ফ্লাইওভারের উপর গাড়ী উঠানো, রাস্তার বাহিরে গাড়ী দ্বারা করালে, গাড়ী রেখে চা বা খাবার খেতে গেলে, ইউ টান ঘুরতে গেলে, চলন্ত গাড়ীর উপরে উঠাসহ আরো বিভিন্ন প্রকার হয়রানি হতে হয় আমাদের। গাড়ীর কাগজপত্র সবকিছু ঠিক থাকলেও ড্রাইভিং লাইসেন্স ঠিক থাকলেও গুনতে হয় মোটা অংকের টাকা না হয় মামলা। রেকার বিল করবে বলেও টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

 

অনেক সময় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন না করলেও বা ছোটখাটো ভুলের জন্য অযৌক্তিক মামলা দেওয়া হয়। মামলা না করার বিনিময়ে ঘুষ দাবি বা অনৈতিকভাবে টাকা নেওয়া অভিযোগ পাওয়া যায়। পার্কিং বা অন্যান্য অপরাধে গাড়ী রেকার ও ডাম্পিং করবে বলে বড় অংকের জরিমানা আদায় করা হয়, যেখানে ক্ষেত্রবিশেষে হয়রানির অভিযোগ থাকে।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সার্জেন্ট শাকিল ট্রাফিক পুলিশ তিনজন নিয়ে ডিউটি অবস্থায় ঘটনাস্থলে যায়, কয়েকটা গাড়ী ধরতে গিয়ে সাংবাদিক আছে টের পেয়ে সেখান থেকে জায়গা ত্যাগ করে চলে যায়। বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে গিয়ে দেখা যায়, সার্জেন্ট মামুন তার ডিউটি অবস্থায় তিনজন ট্রাফিক পুলিশ নিয়ে উরাধুরা রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রত্যেকটা গাড়ী থামিয়ে মামলা দেওয়ার ভয়-ভীতি দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। শুধু তাই না সার্জেন্ট মনিরের নামে রয়েছে অসংখ্য অভিযোগ, বেপরোয়া ভাবে গাড়ী ধরা, রেকার বিল করবে বলে টাকা খাওয়া, গাড়ীর কাগজপত্র চেয়ে মামলা দিবে বলে টাকা খাওয়া, রাস্তার বাহিরে গাড়ী থাকলে সেখানে গিয়েও ড্রাইভারদেরকে হয়রানি করা সহ নানান অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

 

গাজীপুরের বাইপাস হয়ে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর পর্যন্ত ফ্লাইওভারের তিন ভাগের একভাগ কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। অন্যান্য রাস্তায় তুলনামূলকভাবে এই রাস্তায় পুলিশ হয়রানি বেশি হতে হয়। 

 

বিভিন্ন ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ট্রাফিক পুলিশ ডিউটি শেষে, পকেট ভর্তি টাকা নিয়ে দোকানে আসে। প্যান্টের চার পকেট থেকে যেভাবে টাকা বের করে। আমার মনে হয় প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে পরিবহন জগত থেকে। দুই তিন ঘন্টার ব্যবধানে এতো টাকা আগে কখনো দেখিনি।

 

জনসাধারণের প্রশ্ন হলো, ফ্লাইওভারে গাড়ী উঠানোর নির্দেশ পুলিশের থাকতে পারে। যেহেতু ফ্লাইওভারের গাড়ী উঠতে চায় না। তাই বলে প্রত্যেকটা গাড়ী থামিয়ে ট্রাফিক পুলিশ চাঁদাবাজির মতো হয়রানি করা কী ঠিক?

 

ড্রাইভারদের সাথে আরো কথা বলে জানা যায়, ফ্লাইওভারে উঠলে আমাদের গন্তব্যস্থান থেকে অনেক দূরে যেতে হয়। এবং ফ্লাইওভারে উঠতে পকেটে টাকা থাকতে হয়। আমরা ফ্লাইওভারে উঠে অনেক দূরে গিয়ে নামবো কেন? এবং আমাদের পকেটে বিভিন্ন সময় চা খাওয়ার টাকা থাকে না। ফ্লাইওভারে উঠলে টোল খরচ দিতে হয়। আমরা সেই টোল খরচ কোথায় পাবো? এটা সম্পূর্ণ ট্রাফিক পুলিশের কারসাজি।

 

ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি-ট্রাফিক) এস এম আশরাফুল আলম, একাধিকবার ফোন দেওয়া হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

 

গাজীপুর মেট্রোপলিটন (জিএমপি) পুলিশ কমিশনার মোঃ ইসরাইল হাওলাদার, একাধিকবার ফোন দেওয়া হলে তাকে পাওয়া যায়নি।



সম্পর্কিত খবর