রংপুর

ঠাকুরগাঁও এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী তোপের মুখে পলায়ন: টেন্ডার বাতিল নিয়ে ঠিকাদারদের চরম ক্ষোভ

ঠাকুরগাঁও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস ঠিকাদারদের চরম ক্ষোভ ও তোপের মুখে অফিস ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। টেন্ডার বাতিল নিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর স্বেচ্ছাচারিতা ও সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এর সুরাহা না হলে তাঁর কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার আলটিমেটাম দিয়েছেন।

 

সোমবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে এলজিইডি’র জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের কামরুল ইসলাম সিদ্দিক মিলনায়তনে ক্ষতিগ্রস্ত ঠিকাদাররা জরুরি বৈঠকে বসলে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

 

ঘটনার সূত্রপাত: জানা যায়, ওই দিন প্রায় চার শতাধিক ঠিকাদার এলজিইডি’র ১৬টি কাজের টেন্ডারে অংশ নিতে অফিসে উপস্থিত হন। টেন্ডার দাখিলের শেষ দিন (ওপেনিং ডেট) ছিল সোমবার। নিয়ম অনুযায়ী ঠিকাদাররা প্রায় ৬৯ লাখ টাকার পে-অর্ডার জমা দিয়েছিলেন।

 

তবে হঠাৎ নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস জানিয়ে দেন যে টেন্ডারগুলো বাতিল করা হয়েছে এবং বাতিল সংক্রান্ত কাগজপত্র ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো বা এ বিষয়ে আগে থেকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি কেন—এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে তিনি রাজি হননি বলে অভিযোগ ঠিকাদারদের।

 

ঠিকাদারদের ক্ষোভ ও আলটিমেটাম: নির্বাহী প্রকৌশলীর এমন অঘোষিত টেন্ডার বাতিলের সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ঠিকাদাররা। তাঁরা জানান, কোনো পূর্বঘোষণা বা কারণ না জানিয়ে হঠাৎ টেন্ডার বাতিল করায় তাঁরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, “আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এর সঠিক কারণ এবং সুরাহা দিতে না পারলে আমরা নির্বাহী প্রকৌশলীর রুমে তালা ঝুলিয়ে দেবো।”

 

তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, নির্বাহী প্রকৌশলী বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে ঠাকুরগাঁওয়ে এসে সেই সরকারের এজেন্ডা এখনো বাস্তবায়ন করছেন এবং ফ্যাসিস্ট সরকারের দালাল ঠিকাদারদের সব ধরনের বিল সুকৌশলে পরিশোধও করছেন। এখন তিনি এ ধরনের নাটকীয় ঘটনার অবতারণা করছেন।

 

নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য: নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস অফিস ছেড়ে চলে যাবার পরও দীর্ঘ সময় তাঁর কক্ষে অপেক্ষা করে তাঁকে বা তাঁর স্টাফদের পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি জানান, ঢাকা থেকে আসা নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি কাজ করেছেন। তবে 'ফ্যাসিস্ট সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন'–এর অভিযোগের বিষয়টি তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।



সম্পর্কিত খবর