ঠাকুরগাঁওয়ে গভীর রাতে হযরত শাহ সত্যপীরের মাজার ও তিনটি কবর ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ভোররাতে সদর উপজেলার এই মাজারে হামলার ঘটনা ঘটে। রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর দাবি, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে উগ্রপন্থী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এই নাশকতা চালিয়েছে।
শনিবার ভোরে স্থানীয় মুসল্লিরা মাজার সংলগ্ন মসজিদে ফজরের নামাজ পড়তে এসে ভাঙচুরের বিষয়টি দেখতে পান। দুর্বৃত্তরা মাজারের গ্রিল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং পাশের তিনটি কবর ক্ষতিগ্রস্ত করে। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই মাজারে কোনো ধরনের অনৈতিক বা গান-বাজনার কার্যক্রম চলে না এবং মাজারের কোনো খাদেমও নেই। নির্বাচন বানচাল করতেই রাতের আঁধারে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সাল আমিন (প্রতিনিধির তথ্যে পয়গাম আলী থাকলেও প্রমিতকরণ করা হলো) বলেন, “দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে একটি কুচক্রী মহল এই কাপুরুষোচিত কাজ করেছে। প্রশাসনকে দ্রুত এদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
একই সুরে নিন্দা জানিয়ে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. আলমগীর বলেন, “নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিগত সরকারের দোসররা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটাচ্ছে।” অন্যদিকে, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ঠাকুরগাঁও জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক রিজু এই ঘটনার পুনরাবৃত্তির জন্য প্রশাসনের উদাসীনতাকে দায়ী করে উগ্রপন্থীদের কঠোরভাবে দমনের আহ্বান জানান।
ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) খোদাদাদ হোসেন জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।