রাজনীতি

দীর্ঘ ২৩ বছর পর পটুয়াখালী বিএনপির সম্মেলন জেলা জুড়ে উৎসবের আমেজ

বাধাহীন মুক্ত বাতাসে দীর্ঘ ২৩ বছর পর আগামী ২ জুলাই বুধবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন-২০২৫। পটুয়াখালী ব্যয়ামাগার মিলনায়তনে সকাল ১০ টায়  এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সম্মেল

নকে ঘিরে উৎসবের নগরীতে পরিনত হয়েছে পুরো জেলা। প্রতিদিন মিছিল মিটিংসহ  সম্মেলন সফল করতে  জোরে সোরে চলছে সকল ধরনের প্রচার-প্রচারনা ও প্রস্তুতি। এ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নসহ তৃণমূল বিএনপির নেতা-কর্মীদের মাঝে এক ধরনের চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হচ্ছে।
পটুয়াখালী জেলা বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব আব্দুর রশিদ চুন্নু মিয়ার সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, ভাইস চেয়ারম্যান ও পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এয়ার ভাইস মার্শাল (অবঃ) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুল হক নান্নু, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন, সহ- প্রচার সম্পাদক মোঃ আসাদুল কবির শাহীন, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হাসান মামুন, সদস্য মাওলানা শাহ নেছারুল হক, সদস্য ইঞ্জিঃ একেএম ফারুক আহমেদ তালুকদার,সদস্য মোঃ দুলাল হোসেন। সম্মেলনে জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির ৩০ জনসহ ৮টি উপজেলার প্রায় ১৪০০ জন কাউন্সিলরের প্রত্যক্ষ ভোটে আগামী নেতৃত্ব নির্বাচিত হওয়ার কথা রয়েছে।
জেলা বিএনপি সূত্র জানায়, ২০০২ সালের ১৪ এপ্রিল উৎসব মুখর পরিবেশে সর্বশেষ কাউন্সিলের মাধ্যমে জেলা বিএনপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল(অব:) আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে সভাপতি ও ¯েœহাংসু সরকার কুট্টিকে সাধারন সম্পাদক করে জেলা কমিটি গঠিত  হয়েছিলো। এরপর ২০০৯ সালের ৯ জুন জেলা কমিটি ভেঙ্গে আব্দুর রশিদ চুন্নু মিয়াকে আহবায়ক করে প্রথমে ৫১ সদস্য এবং পরে ৫৮ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ২০১৩ সালের ১৪ মে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সভাপতি, সাবেক মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে পূনরায় সভাপতি ও এম.এ.রব মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৬৯ সদস্য বিশিষ্ট পটুয়াখালী জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। সর্বশেষ ২০২০ সালের ৩ নভেম্বর আবদুর রশিদ চুন্নু মিয়াকে আহবায়ক ও ¯েœহাংসু সরকার কুট্টিকে সদস্য সচিব করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট বর্তমান আহবায়ক কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় বিএনপি।
এদিকে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক এই তিনটি শীর্ষ পদে প্রায় এক ডজন প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। তিনটি পদের মধ্যে সভাপতি পদে যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে, তারা হলেন বর্তমান জেলা বিএনপি আহবায়ক আলহাজ্ব আব্দুর রশিদ চুন্নু মিয়া, সদস্য সচিব স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও অন্যতম সদস্য মাকসুদ আহমেদ বায়জীদ পান্না মিয়া।
সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য পিপি এ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান টোটন, সদস্য মোঃ দেলোয়ার হোসেন খান নান্নু, জেলা বিএনপির  সদস্য বশির আহমেদ মৃধা,  জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোঃ মনিরুল ইসলাম লিটন ও  সাধারণ সম্পাদক এ্যাডঃ তৌফিক আলী খান কবির।
এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জেলা বিএনপির সদস্য খন্দকার ইমাম হোসেন নাসির, সাবেক জিএস আলমগীর হোসেন বাচ্চু ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মশিউর রহমান মিলনের নাম আলোচনায় রয়েছে। 
দীর্ঘ ২৩ বছর পরে এ সম্মেলন অনুষ্ঠানের বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর যুবদল নেতা রাসেল খান জানান,সম্মেলনকে ঘিরে জেলা শহরের ন্যায় কুয়াকাটা পৌর শহরেও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রায় প্রতিদিন কোন না কোন পদ প্রত্যাশী জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ তৃনমুল সফর করছেন এবং কাউন্সিলরদের কাছে ভোট চাচ্ছেন। সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের এ প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়ে তিনি জানান,দেশ নায়ক তারেক রহমান দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র চর্চার যে প্রক্রিয়া শুরু করেছেন এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক মাইল ফলক হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে যারা যে কোন ইউনিটের নেতৃত্ব দিতে চাইলে তৃনমূলের কর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক রেখে দলকে পরিচালনা করবে। সম্মেলন বিষয়ে জেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মুন্সী জানান, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এই ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরাও খুবই আগ্রহ নিয়ে এ সম্মেলনের জন্য অপেক্ষা করছেন। কোন রকম বাধা বিঘœ ছাড়া এ সম্মেলন হবে এটাই বিএনপির কর্মীদের জন্য অত্যন্ত খুশির বিষয়। সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনকে স্বাগত জানান তিনি।
পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব স্নেহাংশু সরকার কুট্টি  বলেন,‘র্দীঘ ২৩ বছর পর জেলা বিএনপির আনুষ্ঠনিক সম্মেলন ঘোষনা করা হয়েছে। এতে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে এক প্রকার উৎসবের আমেজ লক্ষ করা গেছে। আওয়ামীলীগের অব্যাহত দমন-নিপীড়নে নেতাকর্মীরা কোনঠাশা ছিল। দলীয় কোন অনুষ্ঠান তো দুরের কথা,ফেসবুকে একটা পোষ্ট দেয়ার সুযোগ ছিলনা। সেই অসুস্থ পরিবেশ থেকে আজ মুক্ত হাওয়ায় জেলা শহরের শেরেবাংলা সড়কস্থ জিমনেসিয়ামকে সম্মেলনের ভেন্যু হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। তোড়ন,ব্যানার ও ফেস্টুনে শহরকে সাজানো হচ্ছে। টানা বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে নানা আয়োজনে ব্যস্ত সময় পার  করছেন নেতাকর্মীরা’। 
 
তিনি আরও বলেন,‘উক্ত সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান র্ভাচুয়াল ভাবে অংশ নেবেন। এছাড়াও কেন্দ্রীয় বিএনপির একাধিক নেতা সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন।


সম্পর্কিত খবর