দেশের খবর

নিকলীতে ফায়ার এক্সটিংগুইশার বিক্রির নামে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে ফায়ার এক্সটিংগুইশার বিক্রির নামে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, নিকলী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সাব অফিসার মোঃ মোছা ভূঁইয়া (পিএন-৩০০১৮৩)–এর নেতৃত্বে ফায়ারফাইটার রহমত উল্লাহ খন্দকার (পিএন-৫০১৪৯০) ও আল মামুন (পিএন-৫০৩১৯২) বিভিন্ন দোকান ও সাধারণ মানুষের বাসাবাড়িতে গিয়ে ফায়ার এক্সটিংগুইশার কিনতে বাধ্য করছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

ভুক্তভোগীদের দাবি, সংশ্লিষ্টরা নিজেদের ফায়ার সার্ভিসের লোক পরিচয় দিয়ে বলেন—ফায়ার এক্সটিংগুইশার নেওয়া বাধ্যতামূলক, না নিলে জরিমানা ও আইনি ঝামেলায় পড়তে হবে। এ ধরনের ভয় দেখিয়ে একেক জায়গায় একেক দামে এক্সটিংগুইশার বিক্রি করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়—

জারইতলা ইউনিয়নের সাজনপুর বাজারে মুদির দোকানে এক্সটিংগুইশার বিক্রি করা হয় ২ হাজার ৫০০ টাকায়।

সদর ইউনিয়নের পুরাতন শপিংমলে দুইটি এক্সটিংগুইশার বিক্রি করা হয় ৪ হাজার টাকায়।

একই বাজারের মাইশা ইলেকট্রিক দোকানে বিক্রি করা হয় ২ হাজার ৫০০ টাকায়।

লেপের দোকানে বিক্রি করা হয় ২ হাজার ২৫০ টাকায়।

অভিযোগকারীরা আরও জানান, শুধু এসব দোকান নয়—নিকলী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বহু দোকানদার ও সাধারণ মানুষের বাসাবাড়িতেও একইভাবে চাপ প্রয়োগ করে এক্সটিংগুইশার বিক্রি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, সাব অফিসার মোঃ মোছা ভূঁইয়া গত ১০ তারিখে নিকলী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে যোগদানের পর থেকেই এ ধরনের অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করে। এর আগে দোকান বা বাসাবাড়িতে এভাবে ফায়ার এক্সটিংগুইশার বিক্রির ঘটনা তেমন দেখা যায়নি বলে স্থানীয়রা জানান।

সচেতন মহলের মতে, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী দোকান ও প্রতিষ্ঠান লাইসেন্সকরণ, অগ্নিনিরাপত্তা পরিদর্শন ও নির্দেশনা দেওয়া স্টেশন ইনচার্জের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু সাধারণ ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা লাইসেন্সের কথা এড়িয়ে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে বলেন—“লাইসেন্স লাগবে না, শুধু ফায়ার এক্সটিংগুইশার নিলেই হবে।” এতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, ফায়ার সার্ভিস একটি জনগুরুত্বপূর্ণ জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান। তাদের পরিচয় ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখিয়ে পণ্য বিক্রি করা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। তারা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংবাদ লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।



সম্পর্কিত খবর