দেশের খবর

বাঁশখালীতে চেয়ারম্যান পদ নিয়ে দুই গ্রুপ মুখোমুখি, আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা!

বাঁশখালীর উপজেলা বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ নিয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান মাহমুদুল ইসলাম মাবুদ ও চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী ইউনুস সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। বর্তমানে চেয়ারম্যান পদ দখল ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদ রক্ষা নিয়ে দুটি পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। এনিয়ে আইনশৃঙ্খলা অবনতিসহ যেকোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছে স্থানীয়রা। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বিকেলেও উপজেলা সদরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে রেজাউল করিম চৌধুরী ইউনুসের বিরোধীরা। তারা হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেছেন, কোন অবস্থাতেই আওয়ামী লীগের এই চেয়ারম্যানকে মেনে নেওয়া হবে না।

জানা গেছে, গত ৫ জুন আওয়ামী লীগ নেতা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী ইউনুস জামিনে আসার পথ থেকেই মুলত; উত্তেজনা শুরু হয়। উপজেলা কৃষকলীগের সহ সভাপতি রেজাউল করিম ইউনুস ১৩ ফেব্রুয়ারী বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলাসহ ৫টি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় ৪ মাস করাগারে ছিলেন। ওই সময়ে পরিষদের কার্যক্রম রাখতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম ইউপি সদস্য মাহমুদুল ইসলাম মাবুদকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেন। বর্তমানেও মাহমুদুল ইসলাম মাবুদ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সূত্র জানায়, ৫ জুন চেয়ারম্যান রেজাউল করিম ইউনুস জামিনে এসে একাধিক বার পরিষদে আসার চেষ্টা করেন। চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী ইউনুস পরিষদে আসছেন এই খবরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহমুদুল ইসলাম মাবুদের শত শত সমর্থক লাঠিসোটা নিয়ে চেয়ারম্যানকে প্রতিরোধে পরিষদের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। উপজেলা সদরেও বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন চেয়ারম্যান রেজাউল বিরোধীরা। চেয়ারম্যান রেজাউল করিমের সমর্থকরাও পরিষদ থেকে এক কিলোমিটার দুরে রত্নপুর এলাকায় জড়ো হয়ে পাল্টা প্রস্তুতি নেন। দফায় দফায় দুটি পক্ষ মুখোমুখি হওয়ায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই ঘটনায় পুরো বাঁশখালীতে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে। মাঝে মধ্যেই দুটি পক্ষ মুখোমুখি হয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করছেন বলে জানান এলাকার বাসিন্দারা।
সূত্র জানায়, বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী ইউনুস গত ১৩ ফেব্রুয়ারী গ্রেপ্তার হন। তিনি উপজেলা কৃষক লীগের সহ সভাপতি। রাজনৈতিক মামলাসহ চেয়ারম্যান রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা হয়। ৪ মাস জেল খেটে বিগত ৫ জুন জামিনে মুক্তি পান চেয়ারম্যান রেজাউল করিম ইউনুস।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান-২ মাহমুদুল ইসলাম মাবুদকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। চেয়ারম্যান রেজাউল করিম ইউনুস গ্রেপ্তার হওয়ার এক সাপ্তাহ পর ১৮ ফেব্রুয়ারী প্রথমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্যানেল চেয়ারম্যান মাহমুদুল ইসলাম মাবুদকে দায়িত্ব দেন। একই সাথে বিগত ৫ মে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম প্যানেল চেয়ারম্যান মাহমুদুল ইসলাম মাবুদকে পরিষদের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা দিয়ে অফিস আদেশ জারি করেন। এর মধ্যে ৫ জুন চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী ইউনুস জামিনে এলে শুরু হয় বিপত্তি। চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী ইউনুস পরিষদে আসতে চাইলে বাঁধা দেন প্যানেল চেয়ারম্যানের সমর্থকরা।
প্যানেল চেয়ারম্যান মাহমুদুল ইসলাম মাবুদ জানান, চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা। তার বিরুদ্ধে ৫টি মামলা চলমান। এমতাবস্থায় চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার হলে আমাকে লিখিতভাবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয়। লিখিত অফিস আদেশে "পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পযর্ন্ত" আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের আদেশ দেয়া হয়। এখন নতুন আদেশ ছাড়া জেল থেকে এসে গায়ের জোরে পদ দখলের চেষ্টা করছে রেজাউল করিম চৌধুরী ইউনুস। এতে এলাকার জনগণ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। জনগন চেয়ারম্যানের এমন অবৈধ কার্যক্রম ঠেকাতে বিক্ষোভ করেছে। তারা কোন অবস্থাতেই রেজাউল করিম চৌধুরী ইউনুসকে মেনে নেবেনা।
অপরদিকে চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী ইউনুস জানান, তিনি এখনো বৈধ চেয়ারম্যান। আমাকে সরকার অপসারণ করেনি। রাজনৈতিক মামলায় জড়িয়ে আমাকে কারাগারে নেয়া হলেও আমি আদালত থেকে জামিন নিয়ে মুক্তি পেয়েছি।
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী মোহাম্মদ জামশেদুল আলম জানান, চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী ইউনুস ৪ মাস কারাগারে ছিলেন। এমতাবস্থায় পরিষদের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্যানেল চেয়ারম্যান মাহমুদুল ইসলামকে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা দেয়া হয়। এমতাবস্থায় চেয়ারম্যান আবার দায়িত্বে ফিরতে চাইলে তাকে জেলা প্রশাসক বরাবরে নতুন করে আবেদন করে জেলা প্রশাসকের লিখিত আদেশ নিয়েই ফিরতে হবে। নতুন আদেশ না আসা পযর্ন্ত মাহমুদুল ইসলাম মাবুদই বাহারছড়ার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেওয়ায় পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যে কোন সময় দুটি পক্ষের মাঝে সংঘাত সংঘর্ষের আশংকা করছে স্থানীয়রা।



সম্পর্কিত খবর