চট্টগ্রাম প্রতিদিন

বাঁশখালীতে বোন, ভগ্নিপতি ও ভাবিকে মামলায় ফাঁসানোর ঘটনায় মানববন্ধন মাকেও নির্যাতনের অভিযোগ!

বাঁশখালীর কালীপুর ইউনিয়নের পূর্ব পালেগ্রাম এলাকায় আপন বোন, ভগ্নিপতি ও ভাবিকে মামলায় জড়ানোর পাশাপাশি আপন গর্ভধারিনী মাকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে আলী আহমদ নামে এক সন্তানের বিরুদ্ধে। আলী আহমদ পূর্ব পালেগ্রাম এলাকার মৃত ফরিদ আহমদের ছেলে। এই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১ জুলাই) দুপুরে পূর্ব পালেগ্রাম এলাকায় মানববন্ধন করেছে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা।
জানা গেছে, বাঁশখালীর কালীপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড কালীপুর ইউনিয়নের পূর্ব পালেগ্রাম এলাকার মৃত ফরিদ আহমদের ছেলে আলী আহমদকে গত ২৫ জুন রাতে কে বা কারা গুনাগারী থেকে ধরে পূর্ব দিকের পাহাড়ে নিয়ে মারধর ও নির্যাতন করেন। এই অভিযোগে গত ২৭ জুন শুক্রবার বাঁশখালী থানায় আলী আহমদের স্ত্রী রোকসানা আক্তার বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আপন ভগ্নিপতি মোহাম্মদ মিজান, আপন ভাই অলি আহমদের স্ত্রী রিমা আক্তার, স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম পেচুর ছেলে মোহাম্মদ আক্কাস ও স্থানীয় জামায়াত নেতা ও চট্টগ্রাম শহরের একটি গার্মেন্টস এর ম্যানেজার সিরাজুল ইসলামকেও আসামি করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, গুনাগরী থেকে ১০ কিলোমিটার পূর্বে পাহাড়ি এলাকার একটি ঘটনায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মহিলাসহ পরিবারের সদস্যদের আসামি করা হয়েছে। যাতে আসামি করা হয়েছে আপন ভগ্নিপতি ও আপন ভাইয়ের স্ত্রী ভাবিকেও।
এই ঘটনার প্রতিবাদে এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে ছেলে আলী আহমদের এমন অনৈতিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদ জানিয়েছেন আপন গর্ভধারিনী মা মাবিয়া বেগম ও ছোট বোন মমতাজ বেগম। মা মাবিয়া বেগম বলেন, সম্পত্তি লিখে দিতে ছেলে আলী আহমদ আমাকে প্রায় সময় নির্যাতন করেন। কয়েকদিন আগে তার মারধরের শিকার হয়ে এখনো আমার পিঠে দাগ রয়েছে।
ছোট বোন মমতাজ বেগম বলেন, আমি মা এবং ভাইয়ের পক্ষে থাকায় আমার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। ভাই আলী আহমদ নেশা করেন এবং তার চরিত্র ভাল নয় দাবি করে বোন মমতাজ বলেন, এই কারণেই আমরা তার কাছ থেকে দুরে থাকি। এখন ভিন্ন একটি ঘটনায় আমার স্বামীকে মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করছে আমার ভাই ও তার পরিবার।
ভাবি রিমা আক্তার বলেন, বাড়িতে বর্তমানে পুরুষ শুন্য। আমি বৃদ্ধা শাশুড়ী ও ননদসহ ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি। মামলা দেওয়ার পাশাপাশি বাড়ি ঘরে হামলা হতে পারে বলে আশংকা করছেন ভাবি রিমা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম পেচু বলেন, আলী আহমদের সাথে রাতের আঁধারে গুনাগারীর পূর্ব দিকের পাহাড়ে কে বা কারা ঘটনা করেছে। উক্ত ঘটনার মামলায় সম্পূর্ণ নির্দোষভাবে তার পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আমার ছেলে আক্কাস এবং স্থানীয় জামায়াত নেতা সিরাজুল ইসলামকেও আসামি করা হয়েছে। তাদের পারিবারিক সালিশ বিচারে আমি মা এবং বোনদের সহায়তা করি বলে অভিযোগ থেকে আলী আহমদ আমার ছেলেকেও মামলায় জড়িয়ে দিয়েছে। তিনি ঘটনার তদন্ত এবং বিচার দাবি করেন। মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ট তদন্ত ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

এদিকে মামলার বাদি আলী আহমদের স্ত্রী রোকসানা আক্তার জানান, আসামিরা সরাসরি জড়িত না থাকলেও তাদের লোকজন এই হামলা ও মারধর করেছে। ঘটনার সময় রাতে মহিলাও উপস্থিত ছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই বিষয়ে আমার স্বামী জানেন। মামলার বাদি আপনি, আসামিদের অভিযোগ আপনি তাদের মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছেন এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন।

 

##



সম্পর্কিত খবর