ঢাকা

বিএনপি সরকারের অবদানেই শিক্ষকরা শতভাগ বেতন সুবিধা পাচ্ছেন: ড. মঈন খান

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বাদ দিয়ে কোনোভাবেই একটি উন্নত ও শক্তিশালী জাতি গঠন সম্ভব নয়। শিক্ষা নিয়ে কোনো প্রকার হেলাফেলা বা ছেলেখেলা করা যাবে না। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে পলাশ উপজেলার আধুনিক মাল্টিপারপাস অডিটরিয়ামে বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় বেসরকারি শিক্ষকদের বিভিন্ন সুবিধা ও বেতন বৃদ্ধির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথম শিক্ষকদের বেতন ৫০ শতাংশে উন্নীত করেছিলেন। এরপর ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে বেগম খালেদা জিয়া আরও ৩০ শতাংশ যোগ করে বেতন ৮০ শতাংশে উন্নীত করেন। দীর্ঘ সময় শিক্ষকদের ভাতা না বাড়ার পর ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার সরকারই শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির শতভাগ বেতন-ভাতা সুনিশ্চিত করে।”

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে প্রায় ২৯ হাজার মাধ্যমিক ও বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকেরা যে সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন, তা বিএনপি সরকারেরই ধারাবাহিক অবদান। সম্প্রতি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পেনশন ও আর্থিক সুবিধা সহজীকরণে বর্তমান সরকারের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপেরও প্রশংসা করেন তিনি। শিক্ষকরাই মানুষ গড়ার কারিগর ও জাতির মেরুদণ্ড উল্লেখ করে তিনি দেশের তরুণ সমাজকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, “অনেকে মনে করেন অস্ত্র বা পারমাণবিক বোমার কারণে আমেরিকা বিশ্বশক্তি হয়েছে, কিন্তু তা সঠিক নয়। তাদের প্রকৃত শক্তি হলো উচ্চমানের শিক্ষাব্যবস্থা।”

পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন ঢাকা মমেনবাগ খান ফাউন্ডেশন ও দি মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রোখসানা খন্দকার।

যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পলাশ উপজেলার সর্বস্তরের শিক্ষকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পলাশ উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও খানেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবীর।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন উপজেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শহীদুল হক বাচ্চু, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সমিতি পলাশ উপজেলা শাখার সভাপতি ও আদর্শ শিশু শিক্ষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতান উদ্দিন, জনতা আদর্শ বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক মাসুদ খান, পলাশ থানা সেন্ট্রাল কলেজের অধ্যক্ষ আমীর হোসাইন গাজী এবং ডা. নজরুল বিন নূর মোহসীন গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক সাইফুল হক।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পলাশ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল সাত্তার, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন ভূইয়া মিল্টন, ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির সভাপতি আলম মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।

আলোচনা সভায় বক্তারা শিক্ষার গুণগত মানের উন্নয়ন এবং সমাজের অগ্রগতিতে শিক্ষকদের অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরেন।

 


সম্পর্কিত খবর