রাজনীতি

যতদূর চোখ যায় মানুষ আর মানুষ

এক মাসেরও বেশি সময় টানা চিকিৎসার পর সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন বাংলাদেশের রাজনীতির আপোসহীন চরিত্র বেগম খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে মৃত্যুকে বরণ করে নেন ৮০ বছর বয়সী বিএনপি চেয়ারপারন। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

 

জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধান বিচারপতি প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, খালেদা জিয়ার পুত্র বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পরিবারের সদস্য, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের প্রতিনিধি, বিদেশি অতিথি, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মী, আলেম-ওলামাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লাখ লাখ মানুষ অংশ নেন।

 

 

জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ, বাইরের অংশ, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ছাড়িয়ে বিজয় সরণি, কারওয়ান বাজার, আগারগাঁও পর্যন্ত এলাকায় লাখ লাখ মানুষ এ জানাজায় অংশ নেন।

 

জানাজার আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও সংগ্রামী জীবনচিত্র তুলে ধরেন। উঠে আসে পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলে খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ এবং মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি করার চিত্রও।

 

এত মানুষ বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিয়েছেন, যতদূর চোখ গেছে শুধু তাদেরই দেখা গেছে।

 

যে দেশকে তিনি নিজের ঠিকানা মনে করেছেন, দেশের মানুষের জন্য দীর্ঘ লড়াই লড়েছেন সেই লাখ লাখ মানুষের শ্রদ্ধা ও চোখের পানি নিয়ে শেষ বিদায় নিচ্ছেন। আপোসহীন নেত্রীর এ যাত্রায় সঙ্গী হচ্ছে মানুষের ভালোবাসাও।

জানাজায় আসা মানুষগুলোও আবেগি ছিলেন। কেউ কেউ ঢুকরে কেঁদেছেন, কেউ হাউমাউ করে।

 

 

কার দৃষ্টি ছিল আকাশের দিকে, কেউ মাটির দিকে তাকিয়ে চোখের জল ফেলছিলেন। কেউ কাউকে সান্তনা দিচ্ছিলেন।

এর আগে সকাল থেকেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে মানুষের ভিড় শুরু হয়। প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে মঙ্গলবার সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে বিএনপির নেতাকর্মী-সমর্থকরা রাজধানীতে আসতে শুরু করেন। শুধু তারাই নয়, যারা শুধুমাত্র খালেদা জিয়াকে ভালোবাসেন, সম্মান করেন- তারাও এসেছেন।

 

জানাজার স্থল থেকে আশপাশের এলাকাগুলোর সড়কে তিল ধারনের জায়গা ছিল না। মানুষের ভিড় প্রমাণ করে, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জানাজা হচ্ছে বিএনপির প্রায়ত চেয়ারপারসনের। 

 

জানাজার পর স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি বীর উত্তম জিয়াউর রহমানের পাশে খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমহিত করা হবে। এসময় খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্য, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ, বিদেশি অতিথি, রাষ্ট্রদূত ও বিএনপি মনোনীত রাজনীতিবিদরা উপস্থিত থাকবেন।

 

দাফনকাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্নের জন্য সেখানে নির্ধারিত ব্যক্তিবর্গ ব্যতীত আর কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। দাফনকাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে জনসাধারণের চলাচল সীমিত করা হবে।

 



সম্পর্কিত খবর