ঢাকা

শহিদদের আত্মত্যাগে উজ্জীবিত হয়ে দেশ গঠনে আত্মনিয়োগের আহ্বান ডুয়েট উপাচার্যের

যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে এ মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস- ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শনিবার রাত ১২টা ১ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনারে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উপ- উপাচার্য, ডীন, বিভাগীয় প্রধান ও পরিচালকবৃন্দ। পরবর্তীতে প্রভোস্টদের নেতৃত্বে বিভিন্ন আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া শিক্ষক সমিতি, পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) দপ্তর, অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন ও কর্মচারী সমিতির পক্ষ থেকেও শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে মহান শহিদ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জয়নাল আবেদীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ- উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার। পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) অধ্যাপক ড. উৎপল কুমার দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. খসরু মিয়া। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য মহান ভাষা আন্দোলনের শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। তিনি বলেন, ১৯৫২ সালের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেই চেতনা থেকেই পরবর্তীতে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। তিনি আরও বলেন, শহিদদের আত্মত্যাগের আদর্শ ধারণ করে অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ভাবে দাঁড়ানোর মনোভাব জাতিকে বারবার এগিয়ে নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়কে বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলে দেশ ও বিশ্বের ইতিহাসে অনন্য উদাহরণ সৃষ্টির প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে শহিদদের আত্মত্যাগে উজ্জীবিত হয়ে সবাইকে দেশ গঠনে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের প্রস্তুতির লক্ষ্যে কার্যকর শিক্ষা ব্যবস্থা, টেকসই গবেষণা সংস্কৃতি ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম জোরদারে শিক্ষক শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন উপাচার্য।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ- উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার ভাষা শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, শহিদদের স্বপ্নের দেশ গড়তে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষা, গবেষণা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও অর্থনীতিসহ সবক্ষেত্রে বাংলা ভাষার চর্চা ও প্রয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডীন, বিভাগীয় প্রধান, পরিচালক, প্রভোস্ট, দপ্তর প্রধানসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। দিবসটি উপলক্ষে সূর্যোদয় থেকে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। এছাড়া যোহরের নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া, মন্দির ও অন্যান্য উপাসনালয়ে প্রার্থনা এবং ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি স্কুলের উদ্যোগে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।



সম্পর্কিত খবর