খবর প্রতিদিন

সুনামগঞ্জ-২ আসনে নৌকার মনোনয়ন চান আল-আমিন চৌধুরী

সাত বার নির্বাচন করায় প্রয়াত পার্লামেন্টারিয়ান-রাজনীতিবিদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নির্বাচনী এলাকা সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) ভোটের রাজনীতিতে ‘সুরঞ্জিতের আসন’ হিসেবে পরিচিত। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (আল-আমিন চৌধুরী)। তিনি আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের ছোট ভাই।

 

রবিবার (১৯ নভেম্বর) দলীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে থাকা আল-আমিন চৌধুরী মনোনয়ন ফরম পূরণ করে দাখিলের আগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেবেন।


জীবদ্দশায় সংসদে সব সময় সরব থাকা রাজনীতিবিদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত জাতীয় রাজনীতিতে একজন অভিজ্ঞ সংবিধান বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি মোট সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সত্তরের নির্বাচনে প্রদেশিক পরিষদেরও নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হলে প্রধানমন্ত্রীর সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ও রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন সুরঞ্জিত। বিতর্কের মুখে রেলমন্ত্রণালয় থেকে পদত্যাগ করে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী ছিলেন কিছুদিন। ২০১৭ সালের ৫ফেব্রুয়ারি তিনি মারা গেলে তার স্ত্রী জয়া সেনগুপ্ত ওই বছরের ৩০ মার্চ অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়া সেন দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী আল-আমিন চৌধুরী মূলত তার প্রয়াত বাবার পরিচয়ে পরিচিত। তার বাবা আব্দুল মান্নান চৌধুরী ছিলেন শাল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি।

সুনামগঞ্জ মহকুমা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

আল-আমিন চৌধুরী জানান, তিনি ছাত্রলীগ থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। ১৯৯৬ সালে তার বাবা রাজনীতি থেকে অবসর নিলে তিনি সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের হাত ধরে সুনামগঞ্জ-২ নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সক্রিয় হন। ২০১৪ সালে শাল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে তিনি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালে শাল্লা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকা মার্কা নিয়ে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করে এলাকায় ফেরা আল-আমিন চৌধুরীর ভাইয়েরা সবাই উচ্চশিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত। আইজিপি ছাড়াও তার আরও তিন ভাই সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় আছেন।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, দ্বিতীয়দফায় সংসদ সদস্য হওয়ার পর থেকে জয়া সেনগুপ্ত নির্বাচনী এলাকায় অনুপস্থিতি দেখা দেয়। করোনা মহামারীকালে একটানা দুই বছর তিনি তার এলাকায় যাননি। বার্ধক্যজনিত কারণ ও শারীরিক অসুস্থতায় অধিকাংশ সময় জয়া সেন ঢাকায় বসবাস করায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্য থেকে সংসদ সদস্য মনোনীত করার দাবি ওঠে।

এলাকামুখী সংসদ সদস্য দাবিটি আওয়ামী লীগের ভেতর থেকে ওঠায় সুনামগঞ্জ-২ আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে জানান আল-আমিন চৌধুরী।

রবিবার দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে তিনি বলেন, ‘২০১৭ সাল থেকে মাঠে তৎপর আছি। ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিজয়ে বড় ভূমিকা রেখেছি। এ জন্য দলীয় প্রতীকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে অনায়াসে বিজয়ী হয়েছি। স্মার্ট বাংলাদেশের সমান্তরাল উন্নয়নে ভাটি অঞ্চলকে এগিয়ে নিতে মানুষ আমার ওপর আস্থাশীল। আমার মনোনয়ন প্রত্যাশা এলাকার জনগণেরও প্রত্যাশা। আশা করি দল জনপ্রত্যাশা বিবেচনা করে আমাকে মনোনয়ন দেবে।’

পারিবারিক পরিচিতি প্রসঙ্গে আল-আমিন চৌধুরী বলেন, ‘এলাকায় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আমার একটাই পরিচিতি। আর সেটা হচ্ছে আমার বাবা মরহুম আব্দুল মান্নান চৌধুরী। তৃণমূলে নিবেদিত একজন হিসেবে তিনি ভাটি অঞ্চলে আওয়ামী লীগকে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন। এ প্রতিষ্ঠার সুফল পুরো ভাটি অঞ্চলে এখন আওয়ামী লীগ সুদৃঢ় অবস্থানে আছে। আইজিপির ভাই নই, মান্নান চাচার ছেলে পরিচয়ে পরিচিত আমরা। বাবার পরিচয়টাই আমাদের জন্য  স্থায়ী।’



সম্পর্কিত খবর