সপ্তাহের ব্যবধানে ঢাকায় শীতের উপস্থিতি আরও স্পষ্ট হচ্ছে। আজ সকাল ৬টায় রাজধানীর তাপমাত্রা নেমে আসে ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। সেইসঙ্গে ছিলো এলাকাভেদে কম-বেশি কুয়াশার উপস্থিতি। যা গত কয়েক দিনের তুলনায় বেশি শীতল অনুভূতি এনে দিয়েছে। তবে দিনের বাকি সময় আকাশ পরিষ্কার ও আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এতে বলা হয়েছে, সকাল থেকে দিনের আবহাওয়া শুষ্ক এবং আকাশ পরিষ্কার থাকবে। এসময় উত্তর/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে হালকা বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। একইসাথে দিনের তাপমাত্রাও অপরিবর্তিত থাকবে। পূর্বাভাসের তথ্য অনুযায়ী, আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আর্দ্রতা ছিল ৯০ শতাংশ। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ সন্ধ্যা ৫টা ১২ মিনিটে সূর্যাস্ত হবে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে সকাল ৬টা ৩২ মিনিটে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি।অন্যদিকে, গতকাল রাতে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত সম্ভাব্য পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আজ সারাদেশে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এছাড়া দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
কুড়িগ্রামে কয়েকদিনে শীত ও ঠান্ডায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) জেলায় সর্বনিম্ন ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
হাসপাতালগুলোতে দিন দিন শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কষ্ট বেড়েছে চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত শীতল বাতাসে বাড়ছে কাঁপুনি। দিনের বেলায় সূর্যের আলো থাকলেও মিলছে না সেই কাঙ্ক্ষিত উষ্ণতা।
কুড়িগ্রাম পৌর শহরের কলেজ পাড়া এলাকার আলামিন মিয়া (৫০), জসিম উদ্দিন (৪৫), আব্দুল জলিলসহ (৬০) অনেকেই বলেন , শীতের তীব্রতায় কুড়িগ্রামে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া দিনমজুররা পড়েছেন বিপাকে। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রপুর ইউনিয়নের দিনমজুর আকবার হোসেন (৫৫) বলেন, শীতের কারণে সকালে কাজে যাইতে দেরি হয়। ঠান্ডায় হাত-পা চলতে চায় না, তবু কাজ না করে উপায় নাই। পেট তো চলা লাগবে। তবে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপ্নন কুমার বিশ্বাস বলেন, জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা এখনও তেমন বাড়েনি। এরপরও বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিদিন যে রোগীরা আসছেন তারা আউটডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, শীতবস্ত্র বিতরণের তালিকা তৈরি হয়েছে। খুব দ্রুত জেলার শীতার্তদের মধ্যে কম্বল বিতরণ শুরু হবে। কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় জেলায় সবনিম্ন তাপমাত্রা ১০দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। দিন দিন তাপমাত্রা কমে আসবে।