খুলনা

ভাইপোর পরিকল্পনায় ফুফুর ঋণের ৬ লাখ টাকা ছিনতাই, টাকাসহ ৩ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার পান্তাপাড়া গ্রামের সেলিনা বেগম (৫০) একটি এনজিও থেকে ৬ লাখ টাকা ঋণ নেন। গত সোমবার তিনি চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের একটি ব্যাংক থেকে ৬ লাখ টাকা উত্তোলন করে ভাতিজা লিটনের মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। বিকেলের দিকে মহেশপুরের মথুরানগর গ্রামের দত্তনগর-জলিলপুর সড়কে পৌঁছালে দুজন ছিনতাইকারী মোটরসাইকেলে এসে সেলিনা বেগমের হাত থেকে টাকাসহ ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

 

এ খবর পেয়ে মহেশপুর থানা-পুলিশ ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার ও টাকা উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে একটি ইয়ামাহা ফেজার মোটরসাইকেল শনাক্ত করে। ওই মোটরসাইকেলের সূত্র ধরে জলিলপুর গ্রামের আইয়ুব হোসেনের ছেলে আমিনুর রহমান খানকে (২৪) পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

 

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করে এবং ছিনতাইকৃত টাকা তার বাড়িতে আছে বলে পুলিশকে জানায়। সে আরও জানায় যে, সেলিনা বেগমের সাথে থাকা তার ভাতিজা লিটনই এই ছিনতাইয়ের মূল পরিকল্পনাকারী। লিটন শেখ (৪০) (ভাইপো), আমিনুর রহমান খান (২৪), মোস্তফা জামান ওরফে বরকত বিশ্বাস (৪৭) ও শাওন বদ্দি (২৩) মিলে এই ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে।

 

পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার পূর্বে আমিনুর ও শাওন মোটরসাইকেল নিয়ে লিটন ও তার ফুফুকে অনুসরণ করতে থাকে। ঘটনাস্থলে লিটন তার মোটরসাইকেলের গতি কমিয়ে দিলে আমিনুরের মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা শাওন সেলিনা বেগমের হাত থেকে টাকার ব্যাগটি টান দিয়ে ছিনিয়ে নেয়।

 

পরে মহেশপুর থানা-পুলিশ রাত ৮টার দিকে আসামি আমিনুরকে নিয়ে তার বাড়িতে যায় এবং তার দেখানো মতে ছিনতাই হওয়া ৬ লাখ টাকা উদ্ধার করে। এরপর আসামি লিটন ও বরকতকে পৃথক স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত মহেশপুরের কাজীপাড়া গ্রামের আইনাল বদ্দির ছেলে শাওন বদ্দি (২৩) এখনো পলাতক রয়েছে। পুলিশ তাকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

এ ঘটনায় মহেশপুর থানায় মামলা (নং-২১, তারিখ-১১/০৫/২০২৬, ধারা-৩৯৪ দণ্ডবিধি) রুজু হয়েছে। গ্রেপ্তার তিন আসামিকে ঝিনাইদহ আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে মহেশপুর থানা-পুলিশ জানিয়েছে।



সম্পর্কিত খবর