গ্যাসের সমস্যা সমাধানে সরকার এবার ‘এলপিজি কার্ড’ প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘দেশের প্রতিটি সাধারণ ও নারীপ্রধান পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি সরকার এবার এলপিজি কার্ড প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে।’
আজ সোমবার যশোরের উলশীতে খাল খনন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘মা-বোনদের একটি কারণে খুব কষ্ট হয়, রান্নাবাড়ির ব্যাপারে কষ্ট হয়; সেটি গ্রামের মা-বোনই হোক, সেটি শহরের মা-বোনই হোক।
আমরা যেমন সারা দেশের মায়েদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিচ্ছি, সেরকম আরেকটি কার্ড দিতে চাই সেটি হবে এলপিজি কার্ড। এলপিজি গ্যাস আমরা মা-বোনদেরকে পৌঁছে দিব যাতে তাদের রান্নার জন্য কষ্ট করতে না হয়।’
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী ৫ বছরের মধ্যে সব গ্রামে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম খাল খনন করব, আমরা ওয়াদা রেখেছি।
বলেছিলাম মা-বোনদের স্বাবলম্বী করার জন্য আমরা ফ্যামিলি কার্ড দেব। ইনশাল্লাহ আগামী ৫ বছরের মধ্যে আমরা চেষ্টা করব সব গ্রাম, দেশের সব গ্রামে সব মায়েদের হাতে এই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার।’
তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি যারা ভালো ফলাফল করবে, তাদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থাও চালু করা হবে, যাতে তারা উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যেতে পারে।
এর আগে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মাটি কেটে উলাশী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তারেক রহমান। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেছেন, খালটি পুনঃখনন করা হলে এলাকার জলাবদ্ধতা দূর হবে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরও বলেন, খালে পানি থাকলে মা-বোনেরা হাঁস পালন করে বাড়তি আয় করতে পারবেন। আগামী ৫ বছরে আমরা সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার ‘জিয়া খাল’ খনন করতে চাই, যেন গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া মেয়েদের শিক্ষা ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত ফ্রি করেছিলেন। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মেয়েদের শিক্ষা ডিগ্রি (উচ্চতর) পর্যন্ত ইনশাআল্লাহ ফ্রি করা হবে। পাশাপাশি মেধাবীদের জন্য থাকবে বিশেষ উপবৃত্তি।
মা-বোনদের স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘এলপিজি কার্ড’ চালুর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারী প্রধান পরিবারগুলোকে আমরা ফ্যামিলি কার্ড দেব। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে সরকার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হবে। এছাড়া রান্নার কষ্ট লাঘবে দেওয়া হবে এলপিজি কার্ড।
তারেক রহমান বলেন, “আমরা ওয়াদা করেছিলাম ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করব। সরকার গঠনের ১০০ দিনের মধ্যেই আমরা সেই কাজ শুরু করেছি। এছাড়া বন্ধ কলকারখানাগুলো চালুর প্রক্রিয়া চলছে, যাতে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান হয়। মসজিদের ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সরকারি সম্মানি ভাতার কাজও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে, এখন দেশ গড়ার পালা। আমরা জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সব দল মিলে ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর করেছি। সেই সনদের প্রতিটি শব্দ আমরা বাস্তবায়ন করব।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ষড়যন্ত্রের আভাস দিয়ে তিনি বলেন, কিছু ব্যক্তি ও দল গণঅভ্যুত্থানের রায়কে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে জনগণের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে চায়। ১৭৩ দিন হরতাল করে যারা অর্থনীতি ধ্বংস করেছিল, সেই ভূত এখন আবার অন্য কারো কাঁধে আছর করেছে। এদের বিরুদ্ধে জনগণকে সজাগ থাকতে হবে।
বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্লোগান দিয়ে বলেন, গড়বো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। সিঙ্গাপুর যদি ৫০ বছরে বদলে যেতে পারে, তবে বাংলাদেশ কেন পারবে না? ১৯৭১ ও ২০২৪-এ এদেশের মানুষ অসাধ্য সাধন করেছে, এবারও দেশ গড়তে তারা সফল হবে।
সমাবেশে স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে উলসী খালের ওপর একটি নতুন ও সুন্দর ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে তিনি কোদাল হাতে মাটি কেটে খাল পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।