সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজারে মাত্র ৩ কি.মি. কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ করাতো দূরের কথা, সংস্কারের কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি দীর্ঘ দেড় যুগেও। ফলে সেই থেকে উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের শিমুলতলা, তালতলা, কাওয়াগড়, রাজনগর, সুন্দরপই, ইসলামপুর ছাড়াও স্কুল-কলেজে অধ্যয়ণরত শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীসহ এলাকাবাসী অন্তহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। অথচ দেশজুড়ে উন্নয়নের জোয়ার বইলেও জনগুরুত্বপূর্ণ ওই কাঁচা রাস্তাটি আজও আলোর মুখ দেখেনি।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, স্থানীয় মহব্বতপুর বাজার সংলগ্ন ব্রিজের প্র্বূপার হতে দক্ষিণ দিকে যে রাস্তাটি প্রবেশ করেছে সেটি ওই ৬ গ্রামের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। অতীতে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক ওই রাস্তার খানিকটা অংশে কাজ করা হলেও এবছর এক মুঠো মাটিও দেয়া হয়নি সেখানে। যানবাহন চলাচল করাত দূরের কথা, রাস্তার দু'পাশ ঘিরে জনবসতি গড়ে ওঠায় মোটরসাইকেল ব্যতীত অন্য কোনো যান চলাচল করাটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অল্প বৃষ্টিতেই রাস্তাজুড়ে গর্ত ও খানাখন্দের হাঁটু পানি লেগে থাকে। তখন নিত্যদিনের সওদাপাতি বহন করা ছাড়া শুধু খালি পায়ে হেঁটে দূর্গম পথ অতিক্রম করাটাই বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এজন্য কোমলমতি শিক্ষার্থীরা প্রায়ই ক্লাস বর্জন করায় পড়ালেখায় অনেকটা পিছিয়ে পড়ছে তারা।
কলেজ শিক্ষার্থী শাহ্ তামিম আহমদ তারেক জানায়, ‘বারো মাসই আমাদের চরম দুর্ভোগে পোহাতে হয়। বিশেষ করে বর্ষাকালে হালকা বৃষ্টি হলেই সড়কে বড়-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। তখন রাস্তার পিচ্ছিলতায় পা ফেলতে ভয় হয়। রাস্তাটি সংস্কারসহ দ্রæত পাকাকরণের দাবি জানাচ্ছি।’
শিমুলতলা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান জানান, ‘একজন শহীদ ও দুজন বীর মুক্তিযোদ্ধার গ্রাম শিমুলতলা। স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশও নিয়েছি। কিন্তু লজ্জার কথা, মাত্র ৩ কিলোমিটার রাস্তা পায়ে হেটে স্থানীয় বাজারে যেতে হয়। জানিনা এলাকার পরিবর্তন দেখে মরতে পারবো কী না।’
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হারন অর রশিদ বলেন, ‘এ সড়কের কাজের ফাইলপত্র উর্ধতন কর্মকর্তা বরাবরে পাঠানো হয়েছে। শিগগির কাজ শুরু হবে বলে আশাবাদী।’
উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল হামিদ বলেন, ‘এই প্রথম ওই রাস্তার দূরাবস্থার কথা জানলাম। সময় করে রাস্তাটি পরিদর্শন করবো।’