জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ছাত্রদলকর্মী আশিককে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। তবে অভিযোগে ‘সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায়’ এবং ঘটনার দিন মোহাম্মদপুরে না থাকায় ১২৭ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই ফেরদৌস জামান।
শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদের ছাড়াও চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন— সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান, সাবেক কাউন্সিলর আসিফ আহম্মেদ ও তারেকুজ্জামান রাজীব এবং ছাত্রলীগ নেতা নাঈমুল হাসান রাসেল।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের ময়ূর ভিলা এলাকায় বিক্ষোভ করছিলেন আন্দোলনকারীরা। ওইদিন বিকেলে আন্দোলনকারীদের লাঠিপেটা ও গুলিবর্ষণ করা হয়। ওই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় পড়ে যান ছাত্রদলকর্মী শেখ মোহাম্মদ আশিক। পরে ‘মৃত ভেবে’ হামলাকারীরা তাকে রাস্তায় ফেলে যায়।
এ ঘটনায় বাদী হয়ে একই বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুর থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন আশিক। মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১২৯ জনের নাম উল্লেখ ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরো দেড়শ’ জনকে আসামি করা হয়েছিল।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ অন্যদের ষড়যন্ত্র ও পূর্ব-নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযোগপত্রভুক্ত অপর আসামিরা পরস্পর অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করে সারাদেশে ছাত্র-জনতার যৌক্তিক আন্দোলনকে সহিংসভাবে থামানোর লক্ষ্যে সচেষ্ট ছিল।
অব্যাহতি পাওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন-কামরুল হোসেন, ওয়াহিদ হাসান, আক্কাছ সওদাগর, মোরশেদুল আলম চৌধুরী প্রকাশ (তাজু), মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, আব্বাস উদ্দিন, তোফাইল আহমেদ, নিখিল চন্দ্র শীল, তোতা মোল্লা।
অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফেরদৌস জামান বলেন, শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও জাহাঙ্গীর কবির নানকদের ষড়যন্ত্র ও পূর্ব নির্দেশনা মোতাবেক অভিযোগপত্রভূক্ত অপর আসামিরা কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোকাবেক পরস্পর অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করে সারা বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার যৌক্তিক আন্দোলনকে সহিংসভাবে থামানোর লক্ষ্যে সচেষ্ট ছিল।
মামলার বিবরণ থেকে, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই সকাল ৯টা থেকে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের ময়ূর ভিলা এলাকায় আন্দোলনকারীরা আন্দোলন করছিল। বিকেল পৌনে ৩টার দিকে আন্দোলনকারীদের উপর লাঠি চার্জ ও গুলিবর্ষণ করা হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক রক্তাক্ত আহত হন আশিক। তিনি রাস্তায় পড়ে যান। মৃত ভেবে হামলাকারীরা তাকে রাস্তায় ফেলে যায়। এ ঘটনায় ২৮ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন আশিক।